১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই তৎকালীন যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানের রক্তাক্ত অধ্যায়ের কথা আজও রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। আন্দোলন দমাতে তৎকালীন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ১৩ জন আন্দোলনকারী। সেই ঘটনার স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে প্রতিবছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। সে সময় যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলনের দিন তিনিও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন একাধিক শিবিরে বিভক্ত। সেই পরিস্থিতিতে এবারের ২১ জুলাই উপলক্ষে একাধিক জায়গায় শহিদ স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তারই একটি ছিল দিল্লির রাজঘাটে, যেখানে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সংসদের চলতি অধিবেশনের ফাঁকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, ইউসুফ পাঠান ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ ১২ জন সাংসদ। তবে দেব, জুন মালিয়া, সায়নী ঘোষ-সহ ৯ জন সাংসদ উপস্থিত ছিলেন না।
আগেই এনসিপিআই সাংসদরা জানিয়েছিলেন, সংসদ অধিবেশনের কারণে তাঁরা দিল্লিতেই থাকবেন। তাই সেখানেই ২১ জুলাইয়ের শহিদদের স্মরণে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল রাজঘাটে পৌঁছয়। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের হাতে ছিল ফুলের ঝুড়ি। শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে তাঁরা ১৯৯৩ সালের শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “শহিদ শুধু ২১ জুলাইয়ের নন, কার্গিলের যোদ্ধারাও শহিদ, মহাত্মা গান্ধীজিও শহিদ। রাজঘাটে এসে আমরা সব শহিদকেই শ্রদ্ধা জানাই।”
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আয়োজিত ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণসভা থেকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ দলত্যাগীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁদের ‘গদ্দার’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শেষ দেখে ছাড়ব।” কুণালের ওই মন্তব্য নিয়ে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কে কী বলছেন, তার জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা এখানে শহিদদের স্মরণ করতে এসেছি। সকলের মঙ্গল কামনা করি। উনিও ভালো থাকুন।”







