গত দুবছর যাবত গোটা পৃথিবীর আর্থিক হাল ছিল বেশ শোচনীয়। বেহাল অর্থনীতির কবলে পড়ে সাড়া বিশ্বের বহু মানুষই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তার ছবি বেশ স্পষ্ট। সরকারি হোক কিংবা বেসরকারি চাকরির বাজারের অবস্থাও বেশ খারাপ। এই অবস্থায় বিকল্প কর্ম সংস্থান হিসাবে বেছে নেওয়া যেতে পারে যে কোনও ছোটখাটো (Small Business) ব্যবসাকে। কিন্তু সেখানেও রয়েছে সমস্যা। কারণ ব্যবসা করতে গেলে তো পুঁজির দরকার। কিন্তু কোথায় গেলে পাওয়া যাবে পুঁজি।
এ বিষয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প থেকে সহজেই পুঁজি অর্থাৎ মুলধনের ক্ষেত্রে টাকার সন্ধান হতে পারে। তাই চিন্তা না করে নিজে অথবা সরকারি অনুদান প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ গ্রহণ করে বাড়িতে বসেই যে কোনও ছোটোখাটো ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে।
তাই বাড়িতে বসে অল্প পুঁজিতে (Capital) ব্যবসা করে সহজেই আপনি কিভাবে সাফল্য পেতে পারেন আমরা সেই বিষয়টিই আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরব।
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক অল্প পুঁজিতে আপনি কি ব্যবসা শুরু করবেন –
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতি অল্প পুঁজিতে বাড়িতে বসে অ্যামাজন কিংবা ফ্লিপ কার্টের সংস্থার হাত ধরে ই-কমার্সের মাধ্যমে প্যাকেজিং দ্রব্যের ব্যবসা করতে পারেন। কারণ যেকোনো খাবার হোক কিংবা ঔষধ অথবা যে কোনও ব্যবহার্য জিনিস পত্র কে প্যাকেট জাত করতে বর্তমান সময়ে প্যাকেজিং দ্রব্যের চাহিদা প্রচুর। তাই বাজারের চাহিদা অনুযায়ী অল্প পুঁজিতে প্যাকেজিং আইটেমের ব্যবসা করে প্রতিমাসে মোটা টাকা ইনকামের সুযোগ রয়েছে । এক্ষেত্রে যে আইটেম গুলি তৈরি করে ই-কমার্সে ব্যবসা করতে পারেন তার যাবতীয় খতিয়ানই আজ আপনাদের সামনে আমরা তুলে ধরবো।
(১) এগ ট্রে (Egg Tray) :-
বর্তমান সময়ে এগ অর্থাৎ ডিমের অনেক চাহিদা। আর ডিম রাখতে প্রয়োজন এগ ট্রে। কারণ ট্রে ছাড়া ডিম রাখা সম্ভব নয়। ফলে প্যাকেজিংয়ের ব্যবসার ক্ষেত্রে বাজারে এই ডিমের ট্রে-র বিরাট একটা চাহিদা রয়েছে। অল্প পুঁজিতে বাড়িতে বসে সহজেই ডিমের ট্রে তৈরি করে বাজারে বিক্রি করলে ব্যবসা চলবে গড় গড়িয়ে। আর ইনকাম হবে যথেষ্ট।
(২) পাটের ব্যাগ (Jute Bag ) :-
সরকারের তরফে আবেদন নিবেদন এবং নিষেধ স্বত্ত্বেও বাড়েই চলেছে প্লাস্টিকের ব্যবহার। ফলে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। কিন্তু সরকারও হাল ছাড়েনি। প্লাস্টিকের বদলে পাটের জিনিস বিশেষ করে প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগের বদলে বাজারে পাটের তৈরি ব্যাগের ব্যাবহারে জোর দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগের বদলে পাটের তৈরি ক্যারি ব্যাগের চাহিদা যে বেশ বৃদ্ধি পাবে তা বলাই বাহুল্য। তাই সময় থাকতে আপনি যদি পাট কে ব্যবহার করে সুন্দর দৃষ্টি নন্দন ক্যারি ব্যাগ তৈরি করে বাজারে ছাড়তে পারেন তাহলে খুব তাড়াতাড়ি আপনার তৈরি পাটের ক্যারি ব্যাগ বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের কাছে বেশ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে খুব। তাতে আপনি খুব সহজেই দ্রুত লাভবান হতে পারবেন।
(৩) অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ( Alluminium Fowel ) :-
মাছ, মাংস, চা, কফি থেকে শুরু করে ওয়াইন, তেল, দুধের বোতল কিংবা ফার্মাসিউটিক্যাল ট্যাবলেট একাধিক দ্রব্য প্যাকেজিং-এর ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকিং -এর জুড়ি মেলাভার। কারণ এই প্যাকেজিং -এ আবদ্ধ থাকা জিনিস পত্র দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভালো থাকে। তাই বর্তমান সময়ে বেশির ভাগ দোকানী অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেট -এর নির্ভর করেন। তাতে কাস্টমার বা গ্রাহক ও বেশ সন্তুষ্ট হন । তাই বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এই অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল প্যাকেটের ব্যাবসা করা যেতে পারে। তাতে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মাল সাপ্লাই দিলে প্রতিমাসে সহজেই মোটা টাকা কামানো যাবে।
(৪) ঢেউতোলা বাক্স (Design Box ) –
প্যাকেজিংয়ের জন্য এই ধরনের বাক্সগুলি দেখতে অবিকল পিচবোর্ডের বাক্সের মত হয়। অনেকটা হালকা ওজনের ঢেউতোলা বাক্সগুলি সাধারণত বাল্কপূর্ণ প্যাকেজিংয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়। তবে কাগজের স্তর দিয়ে তৈরি এবং খুব টেকসই হয় এই ঢেউতোলা বাক্সগুলি। এগুলি জিগজ্যাগ বোর্ডের কাগজ দিয়ে তৈরি করা হয়।
(৫) কার্ডবোর্ডের বাক্স (Card Board Box) -:
সাধারণত শাড়ি, জামা কাপড়ের মত পোশাক, ইলেকট্রনিক্স জিনিস, গ্যাজেট, কাচের জিনিসপত্র, বিভিন্ন গিফট আইটেম ইত্যাদি স্টোরেজ এবং প্যাকিং এর জন্য এই ধরনের কার্ডবোর্ডের বাক্সগুলি ব্যবহার করা হয়। ছোট বড় বিভিন্ন আকারের জিনিস প্যাকেজিং এর ক্ষেত্রে এই কার্ডবোর্ডের ব্যবসা ব্যবহৃত হয়। নিত্য দিনের প্রয়োজনে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এই কার্ড বোর্ডের বাক্স তৈরি করে বাজারে বিক্রি করলে প্রতি মাসে বেশ মোটা অঙ্কের টাকা আয় হবে।
তাই দেরি না করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এখন থেকেই ঘরে বসে অল্প পুঁজিতে ই-কমার্সের মাধ্যমে এই প্যাকেজিং -এর ব্যবসা শুরু করুন।







