শুক্রবার সকালে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, “আমি নির্দোষ। বিজেপিকে দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানেন। দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। আমি ইতিমধ্যেই মুক্ত হয়ে গিয়েছি। দু দিনের মধ্যে সব প্রমাণ হয়ে যাবে। মমতাদি, অভিষেক সব জানেন”।
বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এরুপ মন্তব্য করার পরই আসরে নামেন বিরোধীরা।বিরোধীদের দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানেন বলে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী আসলে রেশন বণ্টনে দুর্নীতির কথাই বলতে চাইছেন। জ্যোতিপ্রিয়র এই মন্তব্যই বিরোধীদের হাতিয়ার হয়ে ওঠে”।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের এই বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই দলীয় সতীর্থকে আক্রমণ করেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।তৃণমূল সাংসদ বলেন, “উনি ঠিক কী বলেছেন জানিনা। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক যদি এখন বলেন দুর্নীতি হয়েছে তাহলে ব্যবস্থা নেননি কেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করে জানবেন? উনি কোনও চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে দুর্নীতি হচ্ছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী বলেই তাঁর দোষ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দোষ কথায় কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টানা কেন?”
এদিন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্বাস করে কাউকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, কারও যদি পদস্খলন হয়ে থাকে তাহলে সেই দায় কি মুখ্যমন্ত্রীর? কথায় কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টানা কেন? কেউ যদি বেইমানি করে থাকে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো কোনও দোষ করেননি। আমি আজকে সংসদে দলের চিফ হুইপ। বিশ্বাস করে আমাকে এই জায়গা দিয়েছেন। আমার পদস্খলন হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দোষ কোথায়? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামই বা কোথা থেকে আসছে?”
প্রসঙ্গত,জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে তল্লাশি এবং গ্রেফতারির পর তাঁর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তবে জ্যোতিপ্রিয়কে নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে।গতকালই তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, “দুর্নীতি করে থাকলে তার দায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকেরই। এর জন্য দলের ভাবমূর্তি খারাপ হবে না”।এদিকে আবার জ্যোতিপ্রিয়র পাশে দাঁড়িয়েছিলেন দলের আর এক নেতা এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং।







