কলকাতা, ৭ ডিসেম্বর ২০২৩: বাংলার রাজনীতিতে আবারও ‘ছাঁদনাতলা’ বিতর্ক। এবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অকৃতদার প্রকৃতি নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের ব্যক্তিগত আক্রমণ।
গত ৫ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো আবেশের বিয়েতে সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার নিয়ে শুভেন্দু সমালোচনা করেন। শুক্রবারও সেই বিষয়ে তিনি সরব হন। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর বিয়ে স্টেট স্পনসর্ড।
এই সমালোচনাকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু-কুণাল বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। কুণাল বলেন, ”মুখ্যমন্ত্রী তো পরিবারের এক সদস্যের বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছেন! এতে শুভেন্দু যে ভাবে বিয়ে-বিয়ে করে লাফাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে ও নিজেই বিয়েপাগলা হয়ে গিয়েছে। সারা ক্ষণ একটা বিয়ে করি, বিয়ে করি ভাব।”
শুভেন্দুর প্রশ্ন ছিল, কেন মুখ্যমন্ত্রীর পারিবারিক অনুষ্ঠানে সরকারি চিকিত্সকদলকে ব্যবহার করা হচ্ছে? কুণালের বক্তব্য, প্রোটোকল অনুযায়ী চিকিত্সকদল রয়েছে। শুভেন্দুর এ-ও প্রশ্ন ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর প্রোটোকলের জন্যই যদি চিকিত্সক-স্বাস্থ্যকর্মীরা থাকবেন, তাহলে সেই দলে শিশু বিশেষজ্ঞ কেন রয়েছেন?
শুভেন্দু কেন অকৃতদার, সে কথা তিনি একাধিক জনসভায় একাধিক বার বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, যে হেতু তিনি ২৪ ঘণ্টা রাজনীতি করেন, তা-ই মানুষের পরিবারটাই তাঁর পরিবার। বৃহত্তর পরিবার। শুভেন্দুর কথায়, ”পিছুটান যাতে তৈরি না হয়, সে জন্যেই অকৃতদার থেকেছি।”
কিন্তু কুণাল এই যুক্তি মানেননি। তিনি বলেন, ”শুভেন্দু যে ভাবে বিয়ে-বিয়ে করে লাফাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে ও নিজেই বিয়েপাগলা হয়ে গিয়েছে। শীত থাকতে থাকতেই ওর বিয়েটা দিতে হবে। এর পর গরম পড়ে গেলে ওর পাগলামিটা আরও বেড়ে যেতে পারে।”
এই বিতর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিতর্ক কেবল রাজনৈতিক আক্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক হয়ে উঠতে পারে।







