তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর জামিনের মামলা ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার নতুন মোড়। বিচারপতির চেম্বারে অনধিকার প্রবেশ করে মামলার নথি দেখার চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে যখন আদালত চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য, তখন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আর্জি জানালেন মামলার অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মৌসুমি ভাওয়াল। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।
বুধবার সুজিত বসুর জামিনের মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। নিজের আদেশে তিনি জানান, ১৭ অগস্ট মামলার রায় সংরক্ষিত হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ১৮ অগস্ট তাঁর অনুপস্থিতিতে সুজিত বসুর পক্ষের এক আইনজীবী বিচারপতির ব্যক্তিগত সচিবের সঙ্গে ‘যোগসাজশ’ করে তাঁর চেম্বারে প্রবেশ করেন। সেখানে মামলার নথি বের করে দেখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন বিচারপতি। গোটা ঘটনায় ‘পরোক্ষ উদ্দেশ্যের গন্ধ’ রয়েছে বলে মন্তব্য করে আদালতের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। একই সঙ্গে বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নজরে আনার কথাও জানান।
বিচারপতির এই পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে আসার পরেই হাইকোর্টের অন্দরে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০ অগস্ট প্রধান বিচারপতির সচিবকে চিঠি দেন মামলার অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড মৌসুমি ভাওয়াল। তাঁর বক্তব্য, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মৌসুমি ভাওয়াল জানিয়েছেন, ১৮ অগস্ট তিনি নিজের ইচ্ছায় কিংবা কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে বিচারপতির চেম্বারে যাননি। ১৫ নম্বর কোর্ট রুমের কোর্ট অফিসার শিখা মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশ মেনেই কিছু আইনি নজির বা রায় সংক্রান্ত নথির প্রতিলিপি জমা দিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে চিঠির সঙ্গে একটি হলফনামাও জমা দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানিয়েছেন মৌসুমি ভাওয়াল। তাঁর দাবি, তদন্তের মাধ্যমে তাঁকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হোক। একই সঙ্গে ১৮ অগস্ট ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করার জন্য বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের চেম্বারের সামনের ঘরের সিসিটিভি ফুটেজ দ্রুত সংরক্ষণ করে তা খতিয়ে দেখারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
ফলে সুজিত বসুর জামিন মামলা ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও জটিল আকার নিয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ এবং আইনজীবীর পাল্টা দাবির পর এখন সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রস্তাবিত তদন্তের দিকে নজর আইনমহলের। প্রধান বিচারপতির দফতর এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ করে, সেটাই এখন দেখার।







