প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্মেও বিবাহিত মহিলারা শাঁখা-পলা ব্যবহার করেন স্বামীর মঙ্গল কামনায়। শাঁখা-পলা এক জন মহিলার বৈবাহিক জীবনের চিহ্ন। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, শাঁখা-পলা ছাড়া বিয়ে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কিন্তু এই রীতি এল কোথা থেকে? এর প্রেক্ষাপটে রয়েছে বিচিত্র কিছু গল্প।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, এক অত্যাচারী অসুরের উপদ্রবে দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ওই অসুরের নাম ছিল শঙ্খাসুর। এ দিকে শঙ্খাসুরের স্ত্রী তুলসী দেবী ছিলেন নারায়ণের একনিষ্ঠ ভক্ত। কিন্তু শঙ্খাসুরের অত্যাচারের শাস্তি দিতে নারায়ণ তাকে বধ করেন। শঙ্খাসুরের পতিব্রতা, ধর্মপরায়ণ স্ত্রী তুলসী দেবী তখন নারায়ণের কাছে নিজের ও স্বামীর অমরত্বের প্রার্থণা করেন। নারায়ণ তুলসী দেবীর প্রার্থণায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর (তুলসী দেবী) ও শঙ্খাসুরের দেহাংশ (হাড়) থেকে শাঁখার সৃষ্টি করেন এবং বিবাহিত সম্পর্কের মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসাবে এটির ব্যবহারের নির্দেশ দেন। মনে করা হয়, সেই থেকেই হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে বিবাহিত সম্পর্কের মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসাবে শাঁখার প্রচলন হয়। আর সেই থেকেই বিবাহিত মহিলারা স্বামীর মঙ্গল কামনায় এটি পরা শুরু করেন।
ব্রিটিশ লেখক জেমস ওয়াইজের লেখা থেকে জানা যায়, বল্লাল সেনের সঙ্গে দক্ষিণ ভারত থেকে বাংলাদেশে শাঁখারিরা এসেছিলেন। প্রায় ৯০০ বছর আগেও শাঁখার প্রচলন ছিল।ঐতিহাসিকদের মতে, বল্লাল সেনের অনেক আগে থেকে (প্রায় ২,০০০ বছর আগে দক্ষিণ ভারতে শঙ্খশিল্পের উদ্ভব ঘটে) দক্ষিণ ভারতে অলঙ্কার হিসাবে শাঁখার প্রচলন ছিল। সাধারণত এর সঙ্গে নানা কুসংস্কার জুড়ে থাকলেও, এখনও বিয়ের চিহ্ন হিসাবেই বহন করেন মহিলারা। যদিও বর্তমান সময়ে আধুনিকা নারীরা শাঁখা- পলা পরেন না অনেকেই। আবার কর্মক্ষেত্রের জন্যে অনেকের এগুলি পরা সম্ভব হয় না।
অন্যদিকে সমাজের একাংশের মতে, এই শাঁখা-পলা আসলে বিবাহের চিহ্ন। যা একমাত্র নারীদেরই বহন করতে হয়। এই শাঁখা-পলা পরা হাত দেখে বোঝানো হয় যে তিনি বিবাহিত। শুধুমাত্র নারীদেরই কেন বিয়ের চিহ্ন বহন করতে হবে, এই প্রশ্ন ওঠে তখন। স্বামীর কল্যাণের পাঠ পরিয়ে আসলে মহিলাদের বেঁধে রাখার চেষ্টা বলেই যুক্তি দেন তাঁরা।







