ক্রাইমজেলা

স্নানের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেল, ছাত্রী ধর্ষণে সাজা শিক্ষকের

দুই ছাত্রীর স্নানের ছবি তুলে ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করত প্রধান শিক্ষক। ২০২২ সালে নদিয়ার চাপড়া থানার একটি বেসরকারি আবাসিক স্কুলে এই ঘটনায় গুণধর ওই শিক্ষককে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে কৃষ্ণনগরের পকসো আদালত। সোমবার এই সাজা শোনান নদিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (দ্বিতীয়) সুজিতকুমার ঝা।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত ইমজামুল হক বিশ্বাসকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের জেলের কথা শুনিয়েছে আদালত। নিগৃহীতা দুই ছাত্রী সহ মোট ১৩ জনের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই রায় দিয়েছে আদালত। চাপড়া থানা এলাকার ওই স্কুলে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা থাকত। নিগৃহীতা দুই নবম শ্রেণির ছাত্রীও সেখানে থাকত। গোপনে তাদের স্নানের ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে প্রায় চার মাস ধরে তাদের যৌন নির্যাতন করে প্রধান শিক্ষক।কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল বা গর্ভনিরোধক বড়িও খাওয়ানো হতো তাদের। দিনের পর দিন অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দুই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে বাডি় চলে যায়। তাদের ফিরে আসার জন্য অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক হুমকি দিলেও তারা আবাসিক স্কুলে ফিরে না আসায় স্নানের ছবি ভাইরাল করে দেয় অভিযুক্ত শিক্ষক। এরপরেই দুই ছাত্রীর কাছ থেকে ঘটনা জানার পরে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কৃষ্ণনগরের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিগৃহীতা দুই ছাত্রীর অভিভাবক।

প্রথমে পালিয়ে বেড়ালেও শেষপর্যন্ত ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ইমজামুল হক বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাতেও দমে না গিয়ে সাক্ষীদের হুমকি দিতে শুরু করে সে। এই অভিযোগে কলকাতা হইকোর্টে মামলা করেন এক ছাত্রীর পরিবার। এরপরেই এসপির নজরদারিতে ভালো পাবলিক প্রসিকিউটরকে দিয়ে মামলা পরিচালনা করার নির্দেশ দেন বিচারপতি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.