Uncategorizedজেলা

ভালোবাসতে গেলেও অনুমতি লাগত শাহজাহানের! ভয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্য রাজ্যে সংসার বেঁধেছেন প্রেমিক যুগল

ভালোবাসতে গেলেও লাগবে সন্দেশখালির ‘ভাই’ শেখ শাহজাহানের অনুমতি! তাঁর সম্মতি না নিয়ে মন দেওয়া-নেওয়া করলেই বিপদ ! প্রেমিকের কপালে জুটবে, শুধুই মারধর আর জানে মেরে ফেলার হুমকি। শুধু তাই নয় সম্মতি নিয়ে প্রেম করলেও, আরেক বিপত্তি! প্রেমিকা সুন্দরী হলে ‘কুপ্রস্তাব’ আসবে শাহজাহান সিন্ডিকেটের কাছ থেকে। তাতে রাজি না হলে, কী হয়, তা ইতিমধ্যেই টের পেয়েছেন সন্দেশখালির অধিকাংশ। ভয়ে কোথাও নালিশ জানানো তো দূর, ভাইয়ের নিদানে চুপ করে থাকাটাই শ্রেয় মনে করতেন সবাই।

সন্দেশখালি ২ ব্লকের মাঝেরপাড়ার এক তরুণী ভালোবেসেছিলেন গ্রামেরই এক যুবককে। তরুণীর এক প্রতিবেশীর কথায়, ওই যুবক ছোটখাট কাজকর্ম করতেন এলাকায়। দুজনের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক বেশ জমে উঠেছিল। কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি তরুণীর বাবা। তাই দরবার করেছিলেন সন্দেশখালির‘ভাই’এর কাছে। যাতে কিছু একটা ব্যবস্থা করে দু’জনকে ‘আলাদা’ করা যায়। তারপরেই ডাক পড়েছিল প্রেমিক ও তাঁর প্রেমিকার। তারপর যা হয়েছিল, তা রীতিমতো গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো! ভাই’এর বিচারে শাস্তি হিসাবে ওই প্রেমিকের জুটেছিল বাঁশ আর চ্যালাকাঠের মার । কুপ্রস্তাব মিলেছিল তরুণীর।

এতদিন বিষয়টি জানাজানি হয়নি। গ্রামবাসীরা বলছেন, আসলে শাহজাহানের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি! ডান আর বাম হাত ‘জেলে’ আর ভাই ‘অন্তরালে’ যেতেই ফের একবার সামনে এসেছে মাঝেরপাড়ার ওই প্রেম কাহিনী। গ্রামবাসীদের ওই প্রেমিক প্রবর জানিয়েছিলেন, সালিশি সভাতেই শাহজাহান সিন্ডিকেটের কয়েকজন তাঁর প্রেমিকাকে কুপ্রস্তাব দেয়। পরের দিন ফের ওই তরুণীকে ভাইয়ের ‘খাস দরবারে’ ডাকা হয়েছিল। প্রেমিক যুগল বুঝতে পারেন, এবার বড় বিপদ আসছে! এই নিয়ে থানাতে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ না হয়নি ।রাতারাতি গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান তাঁরা। প্রথমে আসেন কলকাতায়। মাঝেরপাড়া ও সংলগ্ন এলাকার অনেকেই দক্ষিণ ভারতে কর্মরত। তাঁদেরই একজনের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর তিরুচিরাপল্লি শহরে জামাকাপড়ের দোকানে কাজ জোটান ওই যুবক। প্রেমিকাকে বিয়ে করে সেখানেই ঘর বেঁধেছেন এই যুগল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.