নির্বাচন আসে যায়, বদলায় রাজনৈতিক পরিবেশ কোথাও পরিবর্তন হয় শাসকের, আর বছর ভর সকল রাজনৈতিক দলই তাদের বিরোধী দের আক্রমন করতে থাকে বিভিন্ন ভাবে। পাশাপাশি নির্বাচন আসলেই তারা যেন একপ্রকার খোলা ময়দান পেয়ে যায়, আর তাদের দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রাচরের মাধ্যমে বিরোধী দের আক্রমনের ধরনও বদল করে ও তীব্র থেকে তীব্র তরও হতে দেখ যায় কখনও কখনও।
সম্প্রতি দেশ জুড়ে জারি হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের নির্বাচনি বিধিনিষেধ। সাথে সকল রাজনৈতিক দলের তরফে জোর কদমে শুরু করেছে তাদের প্রচারও। পিছিয়ে নেই নদীয়ার নবদ্বীপও। নবদ্বীপ শহর ও ব্লক জুড়ে ইতিমধ্যে দেওয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল -বিজেপি – সিপিএম সকল রাজনৈতিক দল। আর দেওয়াল লিখনে যেমন একে অপরকে বিভিন্ন ভাষায় ও বিভিন্ন ভাবে কটাক্ষের মাধ্যমে প্রচার শুরি করেছে তেমনি এবার সংবাদ মাধ্যমও কটাক্ষের বাইরে গেলো না, তৃণমূলের থেকে।
নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুর এলাকায় দলীয়প্রার্থী সমর্থনে দেওয়াল লিখেছে তৃণমূলের তরফে, যেখানে দেখা গেলো একদিকে তাদের প্রার্থীর নাম, অপর প্রান্তে দল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, আর মাঝে সরাসরি সংবাদ মাধ্যমকে কটাক্ষ। যেখানে দেওয়ালে চিত্রের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখঅবয়ব আঁকা হয়েছে। আার তার পায়ের দিকে মাইক্রোফোন হাতে এক মহিলা সংবাদ কর্মীর চিত্র আঁকা, আর ছবিতে সংবাদ কর্মীর মাইক্রোফোন প্রধানমন্ত্রীর পায়ের কাছে। আর লেখা আছে মিডিয়া চাটুকারিতায় ব্যাস্ত। আর এই ছবি দেখ মাত্রই নিন্দার ঝর উঠতে শুরু করেছে সব মহলে।
নবদ্বীপের বিজেপি নেতা তন্ময় কুন্ডু জানায় তৃণমূলের কালচার, রুচি এটাই এরা দেশ তথা রাজ্য জুরে সংবাদ মাধ্যমের ওপর আক্রমণ করে। আর নবদ্বীপে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ মাধ্যম দিনের পর দিন সংবাদ পরিবেশন করেছে, সেটা তৃণমূলের কাঠমানি, তো কখনো বালি চুরির, এমনকি অতীতে নবদ্বীপের এক সংবাদ কর্মীর বাড়িতেও হামলা করা হয়েছিল,মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।
তিনি আরও জানান তৃণমূলের রুচী এতোটাই নিম্ন মানের এরা দেওয়াল লিখনে প্রভু রামের ছবি নিয়ে মন্তব্য লিখেছিলো। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানালে তা মুছতে বাধ্য হয়, আমরা খবর পেয়েছি শহরের রানীরচড়া এলাকাতেও একই ভাবে প্রভু রামচন্দ্রের ছবি এঁকেছে, আমরা সেটা নিয়েও অভিযোগ দায়ের করবো নির্বাচন কমিশনের কাছে।
নবদ্বীপের DYFI নেতৃত্ব অভিজিৎ দত্ত জানান আমরা সর্বদাই সব কিছু তে শালিনতা বজায় রেখেই কাজ করি সেটা প্রচার হোক বা বক্তব্য, কিন্তু সংবাদ মাধ্যম কে নিয়ে এহেন দেওয়াল লিখন সত্যি দুর্ভগ্য জনক। তাও আবার নবদ্বীপের মতো শহরের বুকে৷
কিন্তু প্রশ্ন নবদ্বীপে শাসক তৃণমূলের রোশে সংবাদ মাধ্যম কেন?
উল্লেখ থাকে বিগত দিনে নবদ্বীপে পানিয় জলের সংযোগে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল নবদ্বীপ পৌরসভার বিরুদ্ধে আর সেই খবর সম্প্রচার করায় সে সময় নবদ্বীপ পৌরসভার তরফে একাধিক সংবাদ কর্মীদের ওপর মামলা দায়ের করে, সেই মামলা এখনো নবদ্বীপ কোর্টে চলছে৷ এ ছাড়াও একাধিক বার নবদ্বীপের বিভিন্ন গঙ্গার ঘাট থেকে বালি চুরির খবর সম্প্রচারও করা হয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। আর নবদ্বীপ পৌর সভার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নিতির খবর সম্প্রচার হওয়ার পর গত সপ্তাহে নবদ্বীপের এক বিজেপি নেতা কোলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়েরও করেছে।
তাহলে কি বারংবার দুর্নিতির পর্দা সরিয়ে সকলের সামনে সঠিক তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করার জন্যই কি তৃণমূলের আক্রোশে সরকারি সংবাদ মাধ্যম? এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।







