গত ১০ই মার্চ তৃণমূল কংগ্রেসের জনগর্জন সভার পর থেকেই শোরগোল পরে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। সেখানে অভিনব কায়দায় প্রকাশিত হয় ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী তালিকা। তারপর থেকেই টিকিট না পাওয়ার অসন্তোষ প্রকাশ করে কিছু কর্মী। এমনকি এবছর লোকসভা নির্বাচনে টিকিট পায়নি মৌসম বেনজির নূর। সেই বিষয় নিয়ে এবার তিনি নিজেই সর্বসম্মুখে মুখ খুললেন।
লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট স্থির না হতেই প্রথম দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। তবে অন্যান্য বারের মতোই পিছিয়ে না থেকে অভিনব কায়দায় ৪২ টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে জোড়া ফুল শিবির। তারপর থেকে দলের মধ্যে কিছু বিক্ষুব্ধ মুখ উঠে আসে। এমনকি লোকসভা ভোটের টিকিট না পাওয়ায় ব্যারাকপুরের বিদাই সাংসদ অর্জুন সিং ফের পদ্ম শিবিরের যোগদান করে। পাশাপাশি জনগণ সভার পর থেকে মৌসম বেনজির নূরকে খবরে দেখা যাচ্ছিল না। সেই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উঠেছিল জোর জল্পনা।
এমনকি রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছিল ফের তিনি দল বদলাচ্ছেন? গত ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসেছিলেন। তবে ভোটে লড়াই করলেও জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তারই পরিবারের এক সদস্য। কারণ কংগ্রেসের হয়ে তার পরিবারের এক সদস্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাই ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাওয়ার অল্পে জয় হয় পদ্ম শিবিরের। অনেকেই মনে করছে তারই ফলস্বরূপ এবারের টিকিট পায়নি মৌসুম নূর। পাশাপাশি এবারের লোকসভা ভোটের আগে তাকে কোনরকম প্রচারেও দেখা যায়নি। সেই নিয়ে চড়চড়িয়ে বাড়ছিল জলপনা। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি দলের সৈনিক হিসেবে কাজ করবেন।
মৌসম বেনজির নূর জানিয়েছেন,”বিজেপিকে হারানোর ইচ্ছা ছিল। উত্তর মালদার আসন থেকে দাঁড়ানোর আশা করেছিলাম। উত্তর মালদার আসনে তৃণমুল কংগ্রেসের টিকিটে প্রতিদ্বন্দিতা করব আশা করেছিলাম। গতবারের নির্বাচনে একই পরিবার থেকে ২ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। তাই ভোট কাটাকাটিতে হেরে গিয়েছিলাম। এবারের নির্বাচনে সেই আশা পূরণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাক্তন পুলিসকর্তা প্রসূন বন্দোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছেন। দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে দলের একজন সৈনিক হিসাবে ওয়েলকাম জানাব। দলের একজন সৈনিক হিসাবে নির্বাচনী ময়দানে লড়াই করব।”







