কলকাতা | নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হওয়া ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বিতর্কের আবহে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের পর প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার নবান্নে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। এই বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলা শাসককে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকতে পারেন।
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এসআইআর শুনানি পর্ব চলাকালীন একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। কোথাও হয়রানির অভিযোগ, কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা, আবার কয়েকটি জেলায় মৃত্যুর অভিযোগও রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে নবান্নে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার নবান্নে একটি প্রাথমিক বৈঠক হলেও, মঙ্গলবার ফের সব ডিএম-দের ডেকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর এসআইআর সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে চাইছে রাজ্য সরকার।
প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে আসন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কারণে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবে। মাধ্যমিক শেষ হওয়ার দিনই শুরু হবে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, যা চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লক্ষেরও বেশি।
এই সময় স্কুল শিক্ষা দফতরের অধীন জেলা স্কুল পরিদর্শক, সেন্টার ইনচার্জ এবং ভেন্যু ইনচার্জদের উপর পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার গুরুদায়িত্ব থাকে। কিন্তু একই সঙ্গে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে তাঁদের যুক্ত থাকতে হওয়ায় পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষা প্রশাসনের একাংশ।
আরও একটি জটিলতা তৈরি হয়েছে কলকাতা ও শহরতলীর একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে এসআইআর শুনানি চলায়। পরীক্ষা চলাকালীন সেই শুনানি কোথায় স্থানান্তর করা হবে, বিকল্প কেন্দ্র নির্ধারণ সম্ভব কি না—এই সব প্রশ্নই সোমবারের বৈঠকে উঠে আসে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবারের বৈঠকে যদি মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকেন, তা হলে এসআইআর প্রক্রিয়া, আইন-শৃঙ্খলা এবং পরীক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশ আসতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। ভোটের আগে এই কয়েক সপ্তাহে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে দিকেই এখন নবান্নের নজর।







