ধর্মবিশ্বাস ভেদে আলাদা হয় প্রার্থনার স্থান। হিন্দুরা যেমন ভক্তিভরে মন্দিরে পুজো দেন, মুসলিমরাও তেমনই নামাজ পড়তে যান মসজিদে। কিন্তু দেশে এমনও কিছু মন্দির রয়েছে, যেখানে একইসঙ্গে প্রার্থনা করেন হিন্দু-মুসলিম সকলেই। তেমন পশ্চিমবাংলায় এই হনুমান মন্দিরেও ধরা পড়ে সেই ছবি। বলা ভালো, এই মন্দিরে পুজোর অধিকাংশ দায়িত্বই সামলান মুসলিম ধর্মালম্বী মানুষ।
বছর পাঁচেক আগে এলাকায় গাড়ি দুর্ঘটনায় একটি হনুমানের মৃত্যু হলে সেই হনুমানটিকে সমাধিস্থ করা হয় ওই এলাকাতেই। এরপর সেখানে একটি হনুমান মন্দির স্থাপন করে শুরু হয় পূজার্চনা । এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল । কিন্তু এই পূজোর দায়িত্ব যদি কোন মুসলমান ধর্মে মানুষ আয়োজন করেন তাহলে একটু অবাকই হবার বিষয় । শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি ।
হিন্দুরাও সেখানে ভক্তিভরে পুজো দিতে আসেন। তবে পুজোর সব দায়িত্ব মুসলিম ধর্মের এক ব্যক্তি নিজ হাতে তুলে নিয়েছেন । এর নেপথ্যে রয়েছে এক কাহিনি। কোথায় রয়েছে এমন মন্দির? আসুন শুনে নেওয়া যাক।
পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির তক্তিপুরে রয়েছে এমনই এক মন্দির যে মন্দির স্থাপন করেছেন ওই এলাকারই এক মুসলমান ধর্মালম্বী মানুষ মেহের আলী।
প্রত্যেক বছর আজকের দিনে হনুমান মন্দিরে পূজা-অর্চনা শুরু হয় চলে চার দিন ধরে। এই পুজোতে কেন্দ্র করে বসে মেলা। হিন্দু মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষ খুশিমনে হনুমান পুজোয় সামিল হন। আর এমনটা হয়ে আসছে প্রায় চার বছর ধরে। ওই অঞ্চলে বহু হিন্দু-মুসলিমের বাস। তাঁরা সকলেই মিলেমিশে থাকেন। তাই এলাকার এই প্রসিদ্ধ মন্দিরেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের অবাধ বিচরণ চোখে পড়ে।
হিন্দুরিতি মেনেই পূজিত হন হনুমান। কোনও ধর্মীয় বেড়াজাল নেই। যে কোনও সম্প্রদায়ের মানুষ এই মন্দিরে এসে পুজো দিতে পারেন। দেশের সাম্প্রতিক অবস্থার দিক থেকে বিচার করলে, এই মন্দিরের কাহিনি হয়তো অবাক করবে সকলকেই, কিন্তু এমনটা বাস্তবেই সম্ভব করে দেখিয়েছে মেমারির এই হনুমান মন্দির ।।







