ভারত ধর্মের দেশ।ভারতের কোনায় কোনায় লেখা রয়েছে বিভিন্ন ইতিহাস। এছাড়াও এই দেশ প্রাচীন সভ্যতার পীঠভূমি। অসম, বিহার থেকে শুরু করে উত্তর প্রদেশ, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র – প্রায় সব রাজ্যেই শতাব্দী প্রাচীন সংস্কৃতির ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। মাটি খুঁড়ে সে সব খুঁজে আনে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। নতুন করে সামনে আসে দেশের সমৃদ্ধময় ঐতিহ্যের কথা।
সম্প্রতি নয়াদিল্লির ওরছায় কিছু জায়গায় চলছিল খনন কাজ। জেসিবি দিয়ে মাটি খোঁড়া হচ্ছিল। হঠাৎই ঘণ্টার মতো অদ্ভুত শব্দ শুনে চমকে ওঠেন জেসিবি অপারেটর। তৎক্ষণাৎ খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ডাক পড়ে বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা এসে খুঁটিয়ে দেখেন। তখনই উঠে আসে ৫০০ বছরের পুরনো ইতিহাস।
বেতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত ওরছা নগর। ভগবান শ্রীরামের সঙ্গে এই শহরের যোগ রয়েছে। প্রত্যেক রাস্তার মোড়ে বড় বড় প্রাসাদ আর মন্দির। এই জন্য ওরছাকে ধর্মীয় শহরও বলা হয়। প্রাচীন ইতিহাস চাপা পড়ে রয়েছে এখানে। সব মিলিয়ে রহস্যে মোড়া এক স্থান।
ওই অঞ্চলে পাথুরে মাটি। তাই জেসিবি ও অন্যান্য বড় যন্ত্রের সাহায্যে খনন কাজ চলছিল। ক্রমাগত উঠে আসছিল শতাব্দী প্রাচীন নগরের ধ্বংসাবশেষ। একদিন জেসিবি দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ির সময় মেশিন অপারেটরের কানে আসে অদ্ভুত শব্দ। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। ঘটনাস্থলে আসেন আধিকারিকরা। তাঁরা খনন কাজ সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন
আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে গোটা বিষয়টা জানানো হয়। তৎক্ষণাৎ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শুরু হয় কাজ। এএসআই-এর গবেষণায় উঠে এসেছে, ধ্বংসাবশেষ ৫০০ বছরেরও বেশি পুরনো। আগেও ঝাঁসি সংলগ্ন এলাকায় খনন কার্যে অনেক ঐতিহাসিক বস্তু পাওয়া গিয়েছিল। এবার ৫০০ বছরের প্রাচীন ইতিহাসের ঝুলি খুলতে চলেছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজেদের মতো করে কাজ শুরু করে এএসআই। খননকালে বিশেষজ্ঞরা একটি চতুর্ভুজ আকৃতির মন্দিরের মতো কাঠামো, একটি সিঁড়ি, পাথরের তৈরি একটি বারান্দা এবং ৫ ফুট উচ্চতার একটি বিশালাকার কলস পেয়েছেন। বর্তমানে এই সব বস্তু খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছে এএসআই দল।






