একসঙ্গে বিমানে উঠেছিলেন দুই ভাই—বিশ্বাসকুমার রমেশ ও অজয় রমেশ। গন্তব্য ছিল লন্ডন। কিন্তু ১২ জুন গুজরাতের আকাশে ঘটে গেল এক বিভীষিকা। আমদাবাদে ভেঙে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়ার AI171। মুহূর্তে সব শেষ। ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে অনেকে প্রাণ হারালেন। তাঁদেরই একজন অজয়। আর এক ভাই, বিশ্বাস, অসম্ভবকে সম্ভব করে ফিরলেন মাটির টানে।
সেই মুহূর্তের কথা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না রমেশ নিজেও। 11A নম্বর আসনে বসেছিলেন তিনি, দাদা ছিলেন 11J তে। দুর্ঘটনার পর বিমানের মাঝামাঝি অংশটি গিয়ে পড়ে এক ডাক্তারি হস্টেলের কাছে। এমার্জেন্সি এক্সিটের কাছে থাকার দরুন রক্ষা পান রমেশ। আশেপাশে শুধু ছড়িয়ে থাকা মৃতদেহ। তাঁর বেঁচে ফেরা যেন এক অলৌকিকতা।
সেই বিশ্বাসকুমার রমেশকে বুধবার দেখা গেল দাদার শেষযাত্রায়। শরীর জর্জরিত, মুখে ব্যান্ডেজ, তবু কাছা গলায় কাঁধে তুলে নিয়েছেন দাদার কফিন। কাঁদছেন, হাঁটছেন—আত্মীয়দের ভিড়ে যেন এক নিঃসঙ্গ বীর।
দিউয়ের বাসিন্দা রমেশ এখন সোশ্যাল মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে। ভাইরাল হয়েছে শেষকৃত্যের ভিডিও। দুর্ঘটনায় আরও সাতজন দিউয়ের বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।
দাদার স্মৃতিতে শোকস্তব্ধ হলেও, নিজের বেঁচে ফেরাকে ‘ঈশ্বরের ইচ্ছে’ বলেই মেনে নিচ্ছেন রমেশ। তাঁর চোখে, এই জীবন এখন দাদার জন্যই উৎসর্গ।
এই ঘটনা শুধু ভাইয়ের বেঁচে ফেরা নয়, বরং হাজার প্রাণের হাহাকার আর একটি আত্মার নিরব কান্না—যা মনে করিয়ে দেয়, জীবন কতটা অনিশ্চিত, আর ভালোবাসা কতটা চিরন্তন।







