বিদেশ

পর্দার আড়ালে কোনও সমঝোতা নয়’, ডিসেম্বরেই ঢাকায় ফিরতে চান হাসিনা! ‘ভয় নয়, আদালতের মুখোমুখি হব’

বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান তিনি। তবে প্রত্যাবর্তনের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বা বিএনপির সঙ্গে কোনও ধরনের গোপন সমঝোতায় যাবেন না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

নিউজ়১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসিনা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা। তাঁর বক্তব্য, এই প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য ক্ষমতা দখল বা পুনরায় সরকার গঠন নয়। বরং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং দেশের মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।

তবে দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের আন্দোলন ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেও আদালতে দাঁড়ানোর ব্যাপারে পিছিয়ে আসছেন না হাসিনা। তাঁর দাবি, বিচার হতে হবে নিরপেক্ষভাবে।

হাসিনার বক্তব্য, তিনি আদালতে গিয়ে নিজের বক্তব্য জানাতে চান, তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে চান এবং তাঁর আইনজীবীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে চান। সাক্ষীদের জেরা এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই বিচার হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকা নিয়েও আবেগঘন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের মানুষের কঠিন সময়ে দেশের বাইরে থাকার জন্য তিনি রাজনীতিতে আসেননি। রাজনৈতিক জীবনে জেল, সরকারি নিপীড়ন এবং একাধিক হামলার মুখোমুখি হওয়ার কথাও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগকেও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হাসিনা। তবে দলের অন্য নেতারা তাঁর সঙ্গে একই সময়ে ফিরবেন, নাকি ধাপে ধাপে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।

একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন দলের সভানেত্রী। তাঁর বার্তা, বাংলাদেশকে বা দেশের মানুষকে পরিত্যাগ করবে না আওয়ামী লীগ। গণতান্ত্রিক আন্দোলনও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে ডিসেম্বরকে সামনে রেখে হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। তবে তিনি আদৌ কবে দেশে ফিরবেন এবং ফেরার পর আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.