জেলা

প্রাচীন ইতিহাস এবং নিষ্ঠা মেনেই ৬০০ বছরে পদার্পণ করলো শান্তিপুর জজ পন্ডিত বাড়ির দূর্গা পূজা

অতিহ্য এবং নিষ্ঠার অন্যতম নিদর্শন নদীয়ার শান্তিপুরের বোনেদিবাড়ি গুলির মধ্যে অন্যতম জজ পন্ডিত বাড়ি।আনুমানিক ৬০০ বছরেরও বেশি দিন থেকে পূজিত হন দেবী দূর্গা জজ পন্ডিত বাড়িতে ।আগে গয়ায় ছিল এই পরিবারের পিতম্বর চট্টর্জির জমিদারি তারপর সেখান থেকে নদীয়ার শান্তিপুরে আসার পর আবারও পুজো চলতে থাকে। যদিওতাঁদের এই জমিদারি পরবর্তীতে আর থাকেনা। তবে জমিদারি না থাকলেও আজও রীতিনীতি মেনে এবং নিষ্ঠার সাথে পূজিত হন দেবী দূর্গা। দেবী এখানে পূজিত হন তন্ত্র মতে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব হল এই পুজোয় দেবী একাই পূজিত হন। আগে পুজোয় ১০৮ টি মহিষ বলি দেওয়া হতো। তবে বর্তমানে মহিষ বলি আর দেওয়া হয়না তার পরিবর্তে আঁখ, চালকুমড়ো, কলা ইত্যদি ফল বলি দেওয়া হয় দেবীর চরণে। ভোগেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। সপ্তমী থেকে শুরু হয় দেবীর ভোগ, অষ্টমীতে দেবীকে দেওয়া হয় ইলিশ মাছের ভোগ, নবমীতে কঁচুর শাক, কলার বড়া। তবে নবমীর ভোগ দশমীতে পান্তা হিসেবে দিয়ে মায়ের আরাধনা করা হয়। তবে এই পান্তা ভোগ খেয়েই মা কৈলাশের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে বাড়ির সদস্যা সঞ্চারী শাস্ত্রী জানান, আগে পুজোয় বেলজিয়াম ফানুসের আলোয় দেবিমূর্তি পূজিত হতেন। তবে পরবর্তীকালে সেই ফানুস চুরি হওয়ার পর বর্তমানর ইলেকট্রিক আলো ব্যবহার করা হয় পুজোয়। যদিও বাড়ির মাতৃমূর্তি যে বেদিতে পুজিত হন সেটি পঞ্চামুন্ডির আসন,কালের নিয়মে সেই বেদি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সেটি ঠিক করার জন্য একজনকে বরাত দেওয়া হলে তিনি মাটি খুঁড়তে গিয়েই মৃত্যু বরণ করেন। তবে দেবী এই বাড়িতে জাগ্রত এমনটাও জানান সঞ্চারী দেবী জানান, বাড়ির সকলে এই পুজোর কদিন একত্রিত হয়। মজা আনন্দে রীতি মেনেই নিষ্ঠা সহ পূজিত হন মা শান্তিপুরের জজ পন্ডিত বাড়িতে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.