সম্প্রতি সমাজের যে পরিস্থিতি তাতে একটা বিষয় স্পষ্ট, এই সমাজে একটা নারী নিরাপদ নয়। সে বড়ো হোক বা ছোট। সমাজের লালসার নজর তাদের ওপর আছড়ে পড়ে। তাই বেশী রাতে করে একা বেড়ানোর কথা তার ভাবতেও পারেনা।এই সম্পূর্ণ বিষয়টিকে খটিয়ে দেখতে পর্যটকের ছদ্মবেশ নিয়ে এবং সাদা পোশাকে রাতের আগরা শহর দেখার সিদ্ধান্ত নিলেন এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল রাতের শহরের নিরাপত্তা নিয়ে নিজের দফতরের ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার। পাশাপাশি অটোর ক্ষেত্রে মহিলারা রাতে কতটা নিরাপদ বোধ করবেন, সেটাও বুঝতে বেরিয়েছিলেন তিনি।
• কী পদক্ষেপ নিলেন তিনি
১.তাজমহলের জন্য বিখ্যাত পর্যটন শহর আগরা। যেখানে অতিভুক্ত পুলিশ কমিশনার (এসিপি) সুকন্যা শর্মা এই পদক্ষেপের সূচনা করেছিলেন আগরা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে। ৩৩ বছর বয়সি ওই পুলিশ আধিকারিক।
প্রথমে নিজেই দফতরেই ফোন করে বসেন সাহায্যপ্রার্থী হয়ে।আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যে হেল্পলাইন নাম্বার আছে সেই (১১২)-তে ফোন করেন সুকন্যা। ওইদিকে থেকে ফোন ধরার পর তিনি বলেন, গভীর রাত এবং রাস্তা ফাঁকা হয়ে যাওয়ার ফলে তিনি ভয় পাচ্ছেন। ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে বলা হয় তিনি যেন একটি নিরাপদ স্থানে গিয়ে অপেক্ষা করেন এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সব তথ্য দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের টহলদারি বাহিনীর থেকে ফোন করে তাঁকে বলে হয়, সুকন্যাকে তাঁর নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাঁরা আসছেন।
তখনই সুকন্যা ফোনে নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, পুলিশের এই আপৎকালীন ব্যবস্থাটি কতটা সক্রিয় সেটা পরীক্ষা করার জন্য তিনি পর্যটকের ছদ্মবেশে তাদের ফোন করেছিলেন। পুলিশ যে তাঁর পরীক্ষায় পাশ করে গিয়েছে, সেটাও জানিয়ে দেন তিনি।
২.এরপরের তিনি পরীক্ষা নিয়েছিলেন অটোচালককের। রাস্তায় দাঁড়িয়েই একটি অটো ডাকেন সুকন্যা। কোথায় যেতে হবে, সেটা অটোচালককে বলার পর তার ভাড়াটি জেনে নেন। সেইমতো অটোতে উঠে যাত্রা শুরু করেন ওই পুলিশ আধিকারিক।নিজের পরিচয় গোপন রেখেই রাস্তায় যেতে থাকে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে ওই অটোচালককে নানা রকম প্রশ্ন করতে থাকেন সুকন্যা। অটোচালকের উত্তরে সন্তুষ্ট হন তিনি। এরপর নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে গিয়ে তিনি অটোচালককে নিজের পরিচয় দেন এবং বলেন যে তিনিও এই পরীক্ষায় পাশ করে গিয়েছেন।
এসিপি সুকন্যার এই পদক্ষেপের কথা জানাজানি হতেই তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ নাগরিক সমাজ সূত্র খবর।







