পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারীতে : গত রবিবার জাতীয় সড়কে পালসিট টোল প্লাজার দখল কার হাতে থাকবে এই নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। যার জেরে উভয় পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হয়। সেই সময় আহত ব্যক্তিদের বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও অনামায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে, এমনটাই অভিযোগ করছে পরিবারের লোক। মৃত ওই ব্যক্তির নাম অংশুমান চতুর্বেদী বয়স ৪০ বছর। বাড়ি মেমারি থানার অন্তর্গত কৈলাসপুরে । জানা গেছে, মৃত অংশুমানের পরিবারের স্ত্রী ও ১৩ বছরের কন্যা ও দেড় বছরের পুত্র সন্তান এবং প্রতিবন্ধী মা রয়েছেন।
পরিবার ও প্রতিবেশীদের কথায় জানা যায়, গত রবিবার টোল প্লাজাতে কাজের জন্য গেছিলেন সেই সময় অংশুমানকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তবে তিনি বাড়ি ফিরে এলে পরিবারের কাউকে কিছু জানায়নি। এরপর তিনি কাজে যোগও দেন কিন্তু আজ সকালে সে অসুস্থ বোধ করলে তাকে মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। খবর চাউর হতেই এলাকার মানুষ ছুটে আসেন অংশুমানের বাড়িতে।
পরিবারের একমাত্র রোজ গেড়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে পরিবার। আগামী দিনে কি করে সংসার চলবে তাতেই চিন্তার ভাঁজ পরেছে পরিবারে ।অপরদিকে টোলের এক কর্মীর কোথায় জানা যায়,তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক ইউনিয়নের দু-পক্ষের মধ্যে। কথা কাটাকাটি থেকে শুরু হয় গন্ডগোল ও হাতাহাতি ও পরে তা পরিণত হল সংঘর্ষে।টোলপ্লাজা দখলে থাকলে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। সেকারণেই কোনও গোষ্ঠীই,সেটি হাতছাড়া করতে চায় না বলে দলেরই একাংশের দাবি। জানা গিয়েছে, যার দখলে টোলপ্লাজা থাকে সে লোক নিয়োগ করতে পারে। কর্মীরা মোটা অঙ্কের টাকা বেতন পান। সম্প্রতি বেশকিছু কর্মী নিয়োগ হওয়ার কথা রয়েছে। দুই গোষ্ঠীই নিজেদের লোকজনকে কাজ দিতে চাইছে। এছাড়া এই টোলপ্লাজা থেকে আরও অন্য পথেও নেতারা আর্থিক সুবিধা পান বলে অভিযোগ। এর আগেও দলের দুই গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। একে অপরের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের কাছে অভিযোগও জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও টোলপ্লাজা ঘিরে শাসকদলের দড়ি টানাটানি চলছে। প্রভাব ধরে রাখতে দু’পক্ষই মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। যার ফলস্বরূপ গত রবিবার সংঘর্ষ এবং এক জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠছে।
যদিও মেমারির বিধায়ক মধূসুদন ভট্টাচার্যের অভিযোগ, দু-পক্ষই বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন। কাজ না করে মজুরি নেওয়া এবং অবসর নেওয়ার পরও কাজ করে যাওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করায় গণ্ডগোল হয়েছে। এখানে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও বিষয় নেই। ঘটনাস্থলে বহিরাগত ছিল কিনা তা প্রশাসন বলতে পারবে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।সমস্ত বিষয় নিয়ে মেমারী ১ তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি নিত্যানন্দ ব্যানার্জীর কাছে গেলে তিনি জানান কর্মসূত্রে তিনি এই মুহূর্তে বাইরে রয়েছেন,ফোন মারফত বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন এই মৃত্যুর পিছনে টোলের কোম যোগ নেই, পোসমাডাম রিপোর্ট এলে পুরো তথ্য পরিষ্কার হয়ে যাবে, তিনিও বলেন যদি কেউ দোষী হয় তার যথাযজ্ঞ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।







