ভাইরাল

জানেন কি অতিরিক্ত আলোক সজ্জা দূষণের কারণে হয়ে দাঁড়াচ্ছে? বিস্তারিত জানুন

ভারতের উৎসবের মরসুমে আলোকদূষণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে দীপাবলি, বড়দিন, এবং নতুন বছরের উৎসবে সজ্জিত করা অতিরিক্ত আলো এবং আতশবাজি ব্যবহারের ফলে শহরগুলোর রাতের আকাশ আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

আলোকদূষণের বেশি কিছু কারণ রয়েছে যেমন,
1. অতিরিক্ত সজ্জিত আলো:ভারতের অনেক শহর এবং গ্রাম পর্যায়ে বাড়ি, দোকান এবং রাস্তায় হাজার হাজার রঙিন লাইট দিয়ে সাজানো হয়। এতে দিনের মতো উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। উদাহরণ দিয়ে বলা যায় সম্প্রতি জগদ্ধাত্রী পুজো গেলো।চন্দননগরের বিখ্যাত আলোক সজ্জা এতেও আলো দূষণের পরিমাণ বেড়েছে।

2. আতশবাজি ও ফাটাকাগুলি: দীপাবলির সময় আতশবাজির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বাড়ে, যা শুধু ধ্বংসাত্মক নয়, বরং আশপাশের এলাকার আকাশকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।

প্রভাব:
– আকাশ ও মহাকাশ গবেষণা:আলোকদূষণ এভাবে বাড়লে শহরগুলোতে রাতের আকাশের দৃশ্য দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি জ্যোতির্বিদ্যা এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য বাধা সৃষ্টি করে।

– বন্যপ্রাণী: অনেক প্রজাতির প্রাণী, বিশেষ করে রাতের বেলা যেগুলো সক্রিয় থাকে, তারা আলোকদূষণের কারণে তাদের প্রাকৃতিক আচরণে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। এতে তাদের খাদ্য সন্ধান, প্রজনন এবং অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

– মানবস্বাস্থ্য:অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো মানুষের সঙ্গীতাত্মক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে, যা ঘুমের সমস্যা এবং মানসিক চাপের সৃষ্টি করতে পারে।

সমাধান:
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, উৎসবগুলোতে সৃজনশীলতার সাথে আলো ব্যবহার করা এবং ফাটাকাগুলির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার করা উচিত। আরো কিছু শহরে ‘সবুজ দীপাবলি’ প্রচারণা শুরু হয়েছে, যেখানে কম আলো এবং কম শব্দের আতশবাজি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভারতের উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি, এই ধরনের সজাগতা ও সচেতনতা পরিবেশকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.