গত ৯ আগস্ট রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল কলেজ আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের খুন ধর্ষণের মতো নিন্দনীয় ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য থেকে দেশ দেশ থেকে বিদেশের সাধারণ মানুষ। আন্দোলন রাত দখল মিছিল অনশন ইত্যাদির মাধ্যমে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালানো হয় সরকারের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে সারা বাংলার জুনিয়র ডাক্তার ফ্রন্টের সদস্যরা স্বাস্থ্য ভবন অভিযান থেকে লালবাজার অভিযান এবং অনুসন জ্বালিয়ে যায় একাধিকবার সরকারের সাথে বৈঠকে সঠিক সিদ্ধান্ত না আসা অব্দি তারা তাদের সিদ্ধান্তে বদল ঘটায় না। এভাবেই তারা আন্দোলন করতে থাকে। তবে সম্প্রতি জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগের মধ্যে একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন, ‘জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট’, তাদের আন্দোলনকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিচার করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তারা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি এবং দুর্নীতি ও ‘হুমকি সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে লড়াই।
তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেননি, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিট জমা দেয়ার পরেও রাজ্য সরকার সম্মতি প্রদান করেনি, যা মামলার দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে বাধা সৃষ্টি করছে। আরও, অভীকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেয়ার পরেও কেন তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছে তারা।
এছাড়া, আরজি কর হাসপাতালের আন্দোলন, যে সময় রাজ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠে, এখন স্লথ হয়ে গেছে। তবে, জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন আন্দোলনকে দমন করতে এক ধরনের রাজনৈতিক কৌশল বা দলীয় অভিসন্ধি হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ জানাচ্ছে। তারা ৬ ডিসেম্বর একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে, যাতে অংশগ্রহণের জন্য তারা সকল চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষকেও আহ্বান জানিয়েছে।







