জেলা

হুগলি থেকে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এগরার কোটিপতি প্রতারক স্বর্ণ ব্যবসায়ী

পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা ১ নম্বর ব্লকের জেড়থান এলাকায় সাড়া ফেলেছে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণা-কাণ্ড। প্রায় ৪ দিন আগে ‘মুসকান জুয়েলার্স’ নামে সোনার দোকান চালানো স্বর্ণ ব্যবসায়ী সাত্তার শেখ কোটি কোটি টাকার সোনার গয়না ও নগদ অর্থ নিয়ে দোকানে তালা ঝুলিয়ে উধাও হয়ে যায়। দোকান বন্ধ দেখে প্রথমে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। পরে মির্জাপুর আমদই গ্রামের বাসিন্দা আপ্তার খাঁন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে এগরা থানার আইসি অরুণ খাঁর নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নামেন এসআই সাহাবুদ্দিন আলী খান সহ একটি বিশেষ টিম। গ্রামের ভেতর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। পুলিশের ধারণা ছিল—ঘটনার পর সাত্তার জেলা ছেড়ে পালিয়েছে। সেই সূত্র ধরে খোঁজ চালিয়ে অবশেষে গতকাল রাতে হুগলির ভগবতীপুর এলাকা থেকে প্রতারক স্বর্ণ ব্যবসায়ী সাত্তার শেখকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাত্তার দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সরল মানুষদের বিশ্বাস অর্জন করে পুরোনো সোনা দিয়ে নতুন গয়না তৈরি করে দেওয়ার নাম করে প্রতারণার ফাঁদ পাতত। পাশাপাশি নগদ টাকা অ্যাডভান্স নিয়ে গয়না বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বহু গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেছিল। সবচেয়ে বেশি প্রতারিত হয়েছেন জেড়থান ও আমদই গ্রামের মহিলারা। তাদের অনুমান—সোনা ও নগদ টাকা মিলিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকার সম্পত্তি হাতিয়ে নিয়েছে সাত্তার।

প্রতারিত গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছেন সেরাজুল খাঁন, তনুজা বিবি, সারদা ব, আমরাবন্ধু সানজিদা খাতুন সহ বহু মানুষ। চার বছর ধরে ভাড়া দোকানে ব্যবসা চালালেও তার আসল উদ্দেশ্য ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা, অভিযোগ স্থানীয়দের।

গ্রেপ্তার হওয়া সাত্তার শেখকে আজ কাঁথি আদালতে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানায়। বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
প্রতারিত মানুষদের একটাই প্রশ্ন—“আমরা কি কখনো আমাদের সোনা আর টাকা ফিরে পাবো?”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.