উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি সময় বাকি নেই। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্যান্ডেল তৈরির প্রস্তুতি, বাজারে জমেছে কেনাকাটার ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর আগমনী সুর শোনা যাচ্ছে। ২০২৬ সালে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়েই অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপুজো। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, প্রতি বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন এবং কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের বাহন বিশেষ কিছু বার্তা বহন করে। তাই এবছর দেবী কোন বাহনে আসছেন এবং কোন বাহনে ফিরছেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোড়ায় এবং গমন হবে নৌকায়। শাস্ত্রীয় নিয়মে সপ্তমী তিথি সপ্তাহের যে বারে পড়ে, তার ভিত্তিতেই দেবীর আগমনের বাহন নির্ধারিত হয়। আর দশমী তিথির বার অনুযায়ী ঠিক হয় গমনের বাহন।
ঘোড়ায় দেবীর আগমনকে সাধারণত শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামাজিক অস্থিরতা, ছত্রভঙ্গ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার ইঙ্গিত। অন্যদিকে, নৌকায় দেবীর গমনকে তুলনামূলকভাবে শুভ বলে মনে করা হয়। এর অর্থ শস্যশ্যামলা পৃথিবী, ভালো ফলন, উর্বরতা এবং সমৃদ্ধির বার্তা।
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রবিবার বা সোমবার সপ্তমী কিংবা দশমী পড়লে দেবীর বাহন হয় হাতি বা গজ। এর প্রতীক জলবৃদ্ধি, পর্যাপ্ত বৃষ্টি ও সমৃদ্ধি। মঙ্গলবার বা শনিবার হলে বাহন হয় ঘোড়া, যা সামাজিক বিশৃঙ্খলা, অস্থিরতা ও ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করে। বুধবার বাহন নৌকা, যা উর্বর জমি, ভালো ফলন ও সমৃদ্ধির প্রতীক। আর বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার হলে বাহন দোলা। শাস্ত্রীয় মতে, এর সঙ্গে মড়ক, রোগব্যাধি কিংবা মহামারীর সংকেত জড়িত।
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর গুরুত্বপূর্ণ তিথিগুলিও এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—
মহালয়া — ১০ অক্টোবর, শনিবার: পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা। ভোরে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনার মধ্য দিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হবে পুজোর আবহ।
মহাষষ্ঠী — ১৭ অক্টোবর, শনিবার: দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দুর্গোৎসব।
মহাসপ্তমী — ১৮ অক্টোবর, রবিবার: নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্নানের পর শুরু হবে মূল পুজোর পর্ব।
মহাঅষ্টমী — ১৯ অক্টোবর, সোমবার: অষ্টমীর অঞ্জলি এবং সন্ধিপুজো ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে থাকবে বিশেষ ভিড় ও উৎসবের আমেজ।
মহানবমী — ২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার: দেবীর বিশেষ পুজো ও আরতির মধ্য দিয়ে চলবে উৎসবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন।
বিজয়া দশমী — ২১ অক্টোবর, বুধবার: দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা এবং প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
অর্থাৎ, ২০২৬ সালের পুজোয় শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী ঘোড়ায় আগমন এবং নৌকায় গমন—দেবীর এই বাহন একদিকে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিলেও, অন্যদিকে বিদায়ের সময় নিয়ে আসছে শস্য, উর্বরতা ও ভালো ফলনের বার্তা।







