অফবিট

হয়েছিলেন গণ ধর্ষণের শিকার :- অজানায় ফুলন দেবী

‘ব্যান্ডিট কুইন’ চম্বলের ফুলন রানী দেবী তিনি আজ না থাকলেও তার জীবনী যেকোনো ব্যাক্তির জন্য লোমোহর্ষক।
মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অর্জুন সিং এর আত্ম জীবনী ‘এ গ্রেইন অফ স্যান্ড ইন আওয়ারগ্লাস অফ টাইম’থেকে ফুলন দেবী সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়।
ফুলন দেবীর জন্ম ১৯৬৩ সালে উত্তরপ্রদেশের জালাউনের পুরবা গ্রামে। শৈশবেই তার বিয়ে হয় তার থেকে ৩ গুন বড়ো ব্যাক্তির সাথে। ছোট থেকেই শিশু ফুলনকে উঁচু জাতির মানুষের থেকে হয়েছিলেন শোষণ, সহ্য করেছিলেন স্বামী পুত্তি লালের অকথ্য অত্যাচার। সেই অত্যাচারের জন্য পালিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান। সেই গ্রামের প্রধানের ছেলেরা তাকে বন্দুক দেখিয়ে গণধর্ষনের শিকার করেন।
ওই ঘটনার পর তার মা, তাকে তিউঙ্গা গ্রামে মাসির বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সেখানে তার পরিচয় হয় তার মাসতুতো ভাই কৈলাশের সাথে। কৈলাশ থাকত চম্বলের দস্যু সরগনা বাবু সিং গুর্জরের সঙ্গে। ফুলনকে, বাবু সিং অপহরনের পাশাপাশি যৌন নির্যাতনও করেন। ওখানেই ডাকাত বিক্রমের সাথে হয়েছিল ফুলনের পরিচয় হয়। তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না, হত্যা করা হয় তার প্রেমিক বিক্রমকে। দস্যু সরগনা শ্রী রাম পরবর্তীতে ফুলনকে অপহরণ করে। ২০ জন পুরুষ মিলে ২২ দিন ধরে ফুলনের উপর গণধর্ষণ করে। তারপর তাকে নগ্ন অবস্থায় সারা গ্রামে ঘোড়ায়।
সমস্ত অপমান অত্যাচারের প্রতিশোধ ফুলন দেবী ১৯৮১ সালে নেন। ফুলন তার ধর্ষণকারী সেই ২০ জনকে পরপর লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। এই ঘটনার পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
জেল থেকে মুক্তি পেয়ে, ১৯৯৬ সালে তিনি সমাজবাদী পার্টির হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ান। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর-ভাদোহি লোকসভা থেকে।
তারপরে ২০০১ সালে দিল্লিতে তার বাড়িতে গিয়ে শের সিং রানা নামের এক ব্যক্তি তাকে গুলি করে হত্যা করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.