দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫ অবশেষে ফিরেছে পাকিস্তানে। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর টুর্নামেন্টটিই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, আর দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর সেই ট্রফির লড়াই ফিরেছে এক অনিশ্চয়তার আবহে। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য এটি শুধু ক্রিকেটীয় লড়াই নয়, বরং বিশ্ব দরবারে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো প্রমাণেরও বড় পরীক্ষা।
তবে পাকিস্তানকে নিয়ে সংশয় কম নয়। অতীতে নিরাপত্তা ইস্যুতে বারবার আন্তর্জাতিক দলগুলো তাদের সফর বাতিল করেছে। ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানে বড় মাপের আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এরপর থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি বড় পরিবর্তন আনলেও অনেক দলের মন থেকে শঙ্কা পুরোপুরি দূর হয়নি। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কোথায় হবে তা নিয়ে অনেক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে দুবাইকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যা পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিকভাবে বেশ অস্বস্তিকর।
তবে পাকিস্তান এই চ্যালেঞ্জকেই সুযোগ হিসেবে দেখছে। উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শকদের উন্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে দেশটি বিশ্বকে দেখাতে চায়, তারা আবারও নিয়মিতভাবে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। ক্রিকেট-পাগল এই দেশে আইসিসি ইভেন্ট ফেরানো নিঃসন্দেহে ক্রিকেটের বিশ্বায়নে ইতিবাচক সংযোজন।
তবে মাঠের খেলায় পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জও কম নয়। তারা শিরোপা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে এই টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে পাকিস্তান কেবল ক্রিকেট নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা আরও দৃঢ় করতে পারবে।







