ইতালীয় ফুটবল আজ এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পরপর দুইবার বিশ্বকাপে ব্যর্থতার ধাক্কা সামলে নতুন পথ খুঁজছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেশটি। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন কোচ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে—আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম, Pep Guardiola।
ইতালির ফুটবল ফেডারেশন Italian Football Federation (FIGC) আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও অভ্যন্তরীণ মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে চিন্তাভাবনা। লক্ষ্য স্পষ্ট—এমন একজন কোচ, যিনি শুধু ট্যাকটিক্স নয়, বদলে দিতে পারবেন গোটা দেশের ফুটবল সংস্কৃতি।
বেতনের দেওয়ালই বড় বাধা
বর্তমানে Manchester City-র দায়িত্বে থাকা গুয়ার্দিওলার বার্ষিক বেতন প্রায় ২৪.৮ মিলিয়ন ইউরো। তুলনায় ইতালি জাতীয় দলের কোচের বেতন অনেকটাই কম। ইউরো জয়ী কোচ Roberto Mancini-র পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৩ মিলিয়ন ইউরো—যা পেপের আয়ের তুলনায় নগণ্য।
এই বিপুল আর্থিক ব্যবধানই মূল সমস্যা। তবে অতীতে এর সমাধান হয়েছে। ২০১৪ সালে Antonio Conte-কে কোচ করার সময় স্পনসর সংস্থা তাঁর বেতনের বড় অংশ বহন করেছিল। ফলে এবারও সেই মডেলই সামনে আসতে পারে।
স্পনসরশিপই কি সেতু?
এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে Puma-র ভূমিকা। ইতালি দলের বর্তমান স্পনসর এবং গুয়ার্দিওলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এই ব্র্যান্ডের। যদি পুমা আর্থিকভাবে বড় অংশ বহন করতে রাজি হয়, তাহলে অসম্ভব নয় এই ডিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল কোচ নিয়োগ নয়—বরং একটি ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড’ তৈরির সুযোগ। পেপের উপস্থিতি ইতালির ফুটবলকে নতুন করে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
ইতালির প্রতি পেপের টান
গুয়ার্দিওলার সঙ্গে ইতালির সম্পর্ক নতুন নয়। খেলোয়াড় জীবনে তিনি Brescia Calcio এবং AS Roma-র হয়ে খেলেছেন। ইতালীয় ভাষায় সাবলীল, সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত।
২০১৮ সালে ইতালিতে কাজের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন—“কেন নয়?”
আরও গুরুত্বপূর্ণ, জাতীয় দলের কোচ হওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। বিশ্বকাপ বা ইউরোর মতো বড় মঞ্চে দেশের দায়িত্ব নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা তিনি একাধিকবার প্রকাশ করেছেন।
সমর্থন পাচ্ছেন কিংবদন্তিদের থেকেও
প্রাক্তন ইতালি ডিফেন্ডার Leonardo Bonucci ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমার হাতে সিদ্ধান্ত থাকলে, আমি গুয়ার্দিওলাকেই বেছে নিতাম। নতুন করে শুরু করার জন্য ও-ই সঠিক মানুষ।”
বাস্তবতা বনাম স্বপ্ন
তবে আপাতত বাস্তবতা হল—গুয়ার্দিওলার চুক্তি এখনও বহাল Premier League-এ তাঁর ক্লাবের সঙ্গে। চলতি মরসুমে সাফল্যের লক্ষ্যে পুরো মনোযোগ সেখানেই।
ইংল্যান্ড ও ব্রাজিল ইতিমধ্যেই কোচ নির্ধারণ করে ফেলেছে। বড় ফুটবল শক্তিগুলোর মধ্যে কোচ খোঁজার দৌড়ে আপাতত পিছিয়ে ইতালি।
তবু প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে—
অর্থের বাধা পেরোতে পারলে, আজুরিদের ডাকে কি সাড়া দেবেন পেপ?
স্বপ্ন দেখতে তো দোষ নেই।







