দিল্লির গরমে ক্লান্ত শরীর, কিন্তু চোখে জ্বলজ্বল করছে আগুন। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে ঝলসে উঠলেন মহম্মদ সিরাজ। একসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ‘লেজ’ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিল ভারত। জাস্টিন গ্রিভসের অবিচল লড়াইয়ে বিরক্ত হয়ে সিরাজ মজার ছলে বলেই ফেলেন, “আর রান কোরো না!”— তাতেই হাসির রোল ওঠে মাঠে। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ংকর সতর্কতা— পরের বল থেকেই পাল্টে যায় চিত্র।
প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ২টি তুলে নিয়ে এই বছর টেস্টে ৩৭ উইকেট পূর্ণ করলেন সিরাজ। এই সাফল্যে তিনি পিছনে ফেলেছেন জিম্বাবোয়ের ব্লেসিং মুজারাবানি (৩৬), মিচেল স্টার্ক (২৯) ও বুমরাহ (২২)-কে। ভারতের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠছেন তিনি, আর বছরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।
মজার ব্যাপার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফলো-অন সত্ত্বেও ক্যাম্পবেল ও শাই হোপ সেঞ্চুরি করে প্রতিরোধ গড়েন। গ্রিভসও হাফসেঞ্চুরি করেন, সিলস যোগ করেন ৩২ রান। তবু সিরাজের নিরলস পরিশ্রমে ধীরে ধীরে গুটিয়ে যায় ক্যারিবিয়ান ইনিংস। প্রতিটি স্পেলেই তাঁর শরীরের ক্লান্তি ধরা পড়লেও, লড়াইয়ের মানসিকতা ছিল অটুট।
চতুর্থ দিনের শেষে যখন তিনি আইস প্যাক মাথায় নিয়ে ডাগআউটে ফিরে আসেন, ধারাভাষ্য কক্ষ থেকে দীনেশ কার্তিকের মন্তব্য যেন সব বলেই দেয়— “দীর্ঘ স্পেলের পর একজন পেসারকে রাজার মতো ব্যবহার পেতে দেখে ভালো লাগছে।” সত্যিই, সিরাজ এখন শুধু ভারতীয় পেসার নন, দলের অনুপ্রেরণার প্রতীক— মজার হুঁশিয়ারি দিয়েই যিনি জয় করে নিচ্ছেন প্রতিপক্ষের মন ও ক্রিকেটবিশ্বের প্রশংসা।







