তেলেঙ্গানার শান্ত, স্নিগ্ধ গ্রাম্য জীবনের পটভূমিতে পরিচালক দয়া রেড্ডি নিয়ে এসেছেন এক মর্মস্পর্শী পারিবারিক কাহিনি, “বাপু – এ ফাদার’স স্টোরি”। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এক পরিবারের জীবন-সংগ্রামের ছবি হলেও, এই সিনেমাটি জীবনের জটিলতা ও সম্পর্কের গভীরতাকে তুলে ধরেছে।
সিনেমার প্রধান চরিত্র, ‘বাপু’ অর্থাৎ বাবা, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সুধাকর রেড্ডি, যিনি ‘বলগম’-এর দাদু হিসেবে পরিচিত। তাঁর স্মৃতিভ্রংশের সমস্যা গল্পের মূল চালিকাশক্তি। ব্রহ্মাজী, যিনি মাল্লানার চরিত্রে অভিনয় করেছেন, এবং আমানি, যিনি সরোজার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, তাদের অভিনয় গ্রামের সহজ-সরল জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
ঋণের জালে জর্জরিত এক কৃষক পরিবার, যারা তাদের সামান্য জমি থেকে তুলো চাষ করে দিন গুজরান করে। ঋণের বোঝা কমাতে তারা এক অদ্ভুত পথ বেছে নেয় – পরিবারের কোনো সদস্যের মৃত্যু হলে সরকারি অনুদান মিলবে, এই আশায় তারা এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করে। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে তাদের এই সিদ্ধান্ত, সিনেমার কালো হাস্যরসকে জীবন্ত করে তোলে।
সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হল এর অভিনয়। ব্রহ্মাজী, আমানি, সুধাকর রেড্ডি, ধন্যা বালাকৃষ্ণান এবং অন্যান্য অভিনেতারা তাদের চরিত্রে প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন। বিশেষ করে ব্রহ্মাজীর অভিনয়, যেখানে তিনি বাবা ও সন্তানের মধ্যেকার টানাপোড়েনকে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
তেলেঙ্গানার আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতিকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে সিনেমায়। কিন্তু কোথাও যেন গল্পটা একটু দীর্ঘ হয়ে গেছে। আরও কিছুটা গভীরতা থাকলে, চরিত্রগুলোর মধ্যে আরও আবেগ যোগ করা গেলে, সিনেমাটি আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারত।
তবুও, “বাপু” সিনেমাটি সেই সব দর্শকদের জন্য, যারা সাদামাটা জীবনের গল্প দেখতে পছন্দ করেন। জীবনের কঠিন সময়েও কীভাবে পরিবার একসঙ্গে থাকতে পারে, কীভাবে হাসি-কান্নার মধ্যে দিয়ে জীবন এগিয়ে চলে, সেই কথাই বলে এই সিনেমা। গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে “বাপু” যেন এক টুকরো আন্তরিকতা নিয়ে হাজির হয়েছে।
রেটিং: ৩.৫/৫







