খেলাধুলা

সেমিফাইনালে সবুজ-মেরুনের সামনে “লৌহপ্রাচীর”, ম্যাচের আগেই হুংকার স্টিফন এজের!

গ্রুপ পর্বের পরিকাঠামো বদলেছে, বদলেছে চিত্রনাট্যও। একসময় লিগ টেবিলে নর্থইস্ট ইউনাইটেড ছিল জামশেদপুরের উপরে, কিন্তু প্লেঅফের মঞ্চে সেই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারেনি তারা। শিলংয়ের কঠিন পরিবেশ, চাপে পড়েও মাথা ঠান্ডা রেখে খেলার মানসিকতা, আর রক্ষণে অনমনীয় দৃঢ়তাই জামশেদপুরকে আইএসএলের শেষ চারে পৌঁছে দিল। সাথেই সেমিফাইনালে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ ঠিক হয়ে গেল। আগামী ৩রা এপ্রিল জেআরডি টাটা কমপ্লেক্সে জামশেদপুরের বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রথম পর্বে মাঠে নামবে মোহনবাগান।

পেদ্রো বেনালির নেতৃত্বে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের স্বপ্ন ছিল নতুন ইতিহাস গড়ার। দলে ছিল আলাদিন আজারেইয়ের মতো ধারালো স্ট্রাইকার, যার গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের কাছে দুঃস্বপ্নের মতো। আইএফএ শিল্ড জয়ের আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে তারা মাঠে নেমেছিল সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে। কিন্তু জামশেদপুরের লৌহপ্রাচীর ভাঙতে ব্যর্থ হল তারা।

স্টিফেন এজের প্রথমার্ধের গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ৮৯তম মিনিটে মোবাশির রহমান লাল কার্ড দেখায়, একজনে কম থাকা জামশেদপুরকে তখন তীব্র চাপ সামলাতে হয়। কিন্তু সেই মুহূর্তেই প্রকৃত ‘মেন অফ স্টিল’-এর প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। প্রতিটি ট্যাকল, প্রতিটি ক্লিয়ারেন্স যেন চূড়ান্ত লড়াইয়ের অস্ত্র হয়ে ওঠে। খেলার অতিরিক্ত সময়ে জাভি হার্নান্দেজের গোল নিশ্চিত করে জামশেদপুরের জয়। দলের এই জয়ে উচ্ছ্বসিত কোচ খালিদ জামিল।

এখন বৃহস্পতিবার সামনে লিগ শিল্ড জয়ী মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ৩ এপ্রিল ‘ফার্নেস’-এ হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। স্টিফেন এজের সোজাসাপ্টা বার্তা— “শব্দে নয়, কাজে প্রমাণ দিতে হবে।” রীতিমত সবুজ মেরুনদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই এই হুংকার ম্যাচের উত্তেজনাকে আরোও বাড়িয়ে তুলল। উল্টো দিকে, হোসে মোলিনার ছেলেদের লক্ষ্য সেমিফাইনালের প্রথম লেগেই জয় নিশ্চিত করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.