কোনো এক ডিসেম্বর মাসের হাড় কাঁপানো শীতের রাত। জেল টহল দিতে দিতে ছেলেটার দিকে আবার চোখ চলে গেল দারোগা মশাইয়ের। এতক্ষণে অন্তত হাতে পায়ে ধরা উচিৎ ছিল, নিদেন পক্ষে একটা আবেদন বা ক্ষমাপ্রার্থনা। দারোগা মশাই পুরোনো মানুষ। এইসব কলেজি বিপ্লবীদের তিনি হাড়ে হাড়ে চেনেন। সাধারণতঃ এরা খুব ভালো ছাত্র হয়, যেমন এই ছেলেটা, বিদ্যালয় স্তরে স্বর্ণপদক পেয়ে পাশ করেছে। তারপর কলেজে উঠে তিনদিন ‘চলছে না, চলবে না !’ করে, তারপর যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বা কলেজের মেয়াদ ফুরিয়ে যায়, বিপ্লবী তেজও ফুড়ুত। তারপর দেখা যায় যে সরকারের বিরুদ্ধে ‘চলছে না চলবে না !’ বলত তাদেরই নিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্রে, পুলিশে বা অ্যাকাডেমিয়ায় একটা চাকরির জন্য এরা মারামারি করছে। এই ছেলেটিও সেই গোত্রের এতে দারোগার বিশেষ সন্দেহ নেই। তবে সাহস আছে ছোকরার, এটা মনে মনে স্বীকার করতে বাধ্য হলেন দারোগামশাই।
‘ছাত্র সভা’-ডেকে তাতে এইরকম রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য রাখা সহজ কাজ না, বিশেষ করে যেখানে বহিষ্কারের শাস্তি কপালে নাচছে। বহিষ্কার করাও হবে বোধ হয় ছোকরাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, এমনটা কানে এসেছে তাঁর। এই পর্যায়ে এসে অধিকাংশ ছেলেই ক্ষমা টমা চেয়ে নেয়, হাতে পায়ে ধরে। এ তার কিছুই করছে না দেখে ভীষণ অবাক হচ্ছেন দারোগা বাবু। মনে মনে ভাবলেন – ছেলের রক্ত বেশ গরম। হঠাৎ বেশ নস্টালজিক হয়ে পড়লেন তিনি। তাঁর ছাত্র জীবনে তিনিও তো দিন বদলের স্বপ্ন দেখতেন, তারপর যা হয়, জীবনের দৌড়ে সেই স্বপ্নকে কবেই চাপা দিয়েছেন ! ছেলেটার প্রতি মায়া হল তাঁর। ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন তিনি ছেলেটার দিকে। কাঁধে হাত রেখে আলতো করে বললেন – ‘আরে এতো হই হাঙ্গামায় আর কি হবে ছোকরা ? শেষটা তো এই দেওয়াল !’ দপ করে চোখগুলো জ্বলে উঠল। দারোগাবাবু চমকে উঠলেন। চোখ দুটো যেন ঠিক দুটো স্ফুলিঙ্গ। সতেরো বছরের ছেলেটির সদ্য গজানো গোঁফের রেখার নিচে খেলে গেল একটা হাল্কা হাসি – ‘দেওয়াল, তবে ঘুণ ধরা, ধাক্কা দিলেই ভেঙে পড়বে।’
১৫৪ য় পড়লেন ভ্লাদিমির লেনিন। আজ সারা বিশ্বে, ভারতবর্ষের, পশ্চিমবঙ্গ সহ কলকাতার বুকে ঈদ, অক্ষয় তৃতীয়া সহ লেনিনের ১৫৪ তম জন্মদিবস পালন করা হচ্ছে।
বামফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ শরিক আর এস পি উত্তর পূর্ব কলকাতা আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন স্বপন ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন কর্মী ও নেতারা।







