বারাণসী বিমানবন্দরে আচমকাই গুলি চলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুম্বইগামী বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় এক যাত্রীর লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল থেকে আচমকা গুলি বেরিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ঘটনায় বিমানবন্দরের কর্মী-সহ কয়েকজন আহত হন। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে—ভারতে বৈধ লাইসেন্স থাকা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কি বিমানে যাত্রা করা যায়?
নিয়ম বলছে, নির্দিষ্ট শর্ত মেনে বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র ও অনুমোদিত গোলাবারুদ বিমানে বহন করা যেতে পারে। তবে কোনও যাত্রী সেটি নিজের সঙ্গে নিয়ে কেবিনে উঠতে পারেন না। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যাত্রা করতে হলে বিমান সংস্থাকে আগে জানাতে হয় এবং নির্ধারিত চেক-ইন ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হয়।
কীভাবে বহন করতে হয় বন্দুক?
আগ্নেয়াস্ত্র অবশ্যই আনলোড অবস্থায় রাখতে হয়। বন্দুক ও গোলাবারুদ যথাযথভাবে আলাদা করে নিরাপদ প্যাকেজিংয়ে রাখতে হয়। যাত্রীর হাতে বা কেবিন ব্যাগেজে অস্ত্র রাখা যায় না। সাধারণত নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে সেটিকে চেকড ব্যাগেজের অংশ হিসেবে পরিবহণ করা হয়।
এর জন্য যাত্রীকে বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র দেখাতে হয়। বিমান সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী মৌখিক ও লিখিতভাবে অস্ত্র বহনের ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। পাশাপাশি গোলাবারুদের পরিমাণ এবং প্যাকেজিংও নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা যাচাই করা হয়।
বারাণসীতে কী ঘটেছিল?
রবিবার সকালে বারাণসীর লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুম্বইগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আজমগড়ের বাসিন্দা কমলেশ রাই। জানা গিয়েছে, তাঁর কাছে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তলটি তিনি নিয়ম মেনে ঘোষণা করেছিলেন।
কিন্তু অস্ত্র পরীক্ষা এবং কার্তুজ গোনার সময় আচমকাই একটি গুলি বেরিয়ে যায়। গুলিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মী এবং কাছাকাছি থাকা আরও এক ব্যক্তি আহত হন। তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঠিক কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি থেকে গুলি বেরিয়ে গেল, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শুধু লাইসেন্স থাকলেই কি যথেষ্ট?
না। অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স থাকলেও বিমানে সেটি বহনের ক্ষেত্রে বিমান সংস্থার নির্দিষ্ট নিয়ম মানতেই হবে। আগে থেকে ঘোষণা, নথিপত্র যাচাই, অস্ত্র আনলোড করা, নিরাপদ প্যাকেজিং এবং নির্ধারিত জায়গায় জমা দেওয়ার মতো একাধিক ধাপ রয়েছে।
অর্থাৎ লাইসেন্স থাকলেই বন্দুক নিয়ে সরাসরি বিমানে ওঠা যায় না। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ মেনে তবেই বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পরিবহণের অনুমতি পাওয়া সম্ভব।
বিমান সংস্থাভেদে নিয়ম ও অতিরিক্ত ফি-তে পার্থক্যও থাকতে পারে। সরকারি দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ক্রীড়াবিদদের জন্য পৃথক বিধিও প্রযোজ্য হতে পারে।






