বাবা-মা জীবিত থাকার পরেও সান্নিধ্য পায় না তাদের। এক কথায় তারা অনাথ। এই অনাথ দুটি শিশুরই থাকা-খাওয়া-পড়ার দায়িত্ব নেয় বারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম। নজরকাড়া ফল নয়, তবে প্রথমবারেই উত্তীর্ণ হয় জীবনের প্রথম পরীক্ষায়। একজনের প্রাপ্ত নম্বর ৩৪৭ ও অন্যজনের ২৬২। তাদের সাফল্যে খুশি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
দুই ছাত্রের মধ্যে একজন হুগলির খানাকুলের বাসিন্দা ও অন্যজন বীরভূমের মাড়গ্রামে থাকে। গত ৭ বছর ধরে অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণী থেকে তারা বারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করেছে। পড়াশোনার সঙ্গে তাদের থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল মিশন কর্তৃপক্ষ।
স্কুল সূত্রে খবর, দুজনের বাবা-মা যাবজ্জীবনের সাজায় বর্ধমান কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিল প্রতিবেশীরা। শিশুদুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যোগাযোগ করা হয় বারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশনে। এরপরেই মিশন কর্তৃপক্ষ তাদের ৭ বছর মিশনের হোস্টেলে রাখে। সঙ্গে তাদের পড়াশোনা, থাকা-খাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই সুযোগ না পেলে অন্ধকারে হারিয়ে যেতে পারত দুটো শৈশব। জানা গিয়েছে, মাধ্যমির পরীক্ষার পর ওই দুই পড়ুয়া ফিরে গিয়েছে নিজেদের বাড়িতে। একজন দাদার কাছে ও অন্যজন মামার বাড়িতে ফিরে গেছে। মিশন স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ভবিষ্যতে যদি তাদের কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে মিশনের পক্ষ থেকে যথার্থ সাহায্য করা হবে।






