হইচই-তে মুক্তি পাওয়া পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘ভোগ’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে। অভীক সরকারের জনপ্রিয় অডিও স্টোরিকে ভিত্তি করে তৈরি এই ছয় পর্বের সিরিজটি তার গাঢ় অন্ধকারময় পরিবেশ, চরিত্রায়ণ এবং অনির্বাণ ভট্টাচার্যের অসাধারণ অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
সিরিজটি দেখার পর একজন দর্শক তার অভিজ্ঞতায় লিখেছেন, ‘ভোগ’ এক লহমায় শেষ হয়ে যায়। গল্পের পরিবেশ, মুড এবং চরিত্রদের বিকাশ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। গোটা সিরিজ জুড়ে এক ধরনের অন্ধকার ও দমবন্ধ করা পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যা দর্শককে আঁকড়ে ধরে রাখে।
বিশেষত অনির্বাণ ভট্টাচার্যের অভিনয় দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। সিরিজে তিনি অতীনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যে কিনা তার মায়ের মৃত্যুশোক কাটিয়ে উঠতে না পেরে একাকীত্বের অন্ধকারে ডুবে যায় এবং দেবীর প্রতি এক অদ্ভুত অবসেশনে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। দর্শকের মতে, অনির্বাণ তার শারীরিক ভাষা ও মুখের অভিব্যক্তির মাধ্যমে অতীনের ভেতরের বিষণ্ণতা ও যন্ত্রণা নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার ক্লান্ত স্বর এবং বিষণ্ণ চাহনি চরিত্রটিকে আরও জীবন্ত করে তোলে। দেবীর আরাধনায় মগ্ন হওয়ার পর তার মধ্যে যে পরিবর্তন আসে, তাও অনির্বাণ দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন।
তবে দর্শকের কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে দেবী মাতঙ্গীর চরিত্রায়ণ নিয়ে। শাস্ত্র অনুযায়ী দেবী মাতঙ্গী জ্ঞান ও অশুদ্ধ-শুদ্ধের যোগসূত্র স্থাপনকারী হলেও, সিরিজে তার একটি একরৈখিক চিত্রায়ণ দেখা যায়। দর্শকের আশা ছিল, দেবীর আরও বিভিন্ন দিক এবং তার সাব-অল্টার্ন প্রেক্ষাপট সিরিজে তুলে ধরা হবে।
অন্যদিকে, পার্নো মিত্র অভিনীত ‘ডামরি’ চরিত্রটিও দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্বল্প সংলাপে পার্নোর উপস্থিতি দুটি সমান্তরাল জগতের মধ্যে এক রহস্যময় যোগসূত্র তৈরি করে। দর্শকের মতে, ভূতের ছবিতে যতক্ষণ ভূত দেখা না যায়, ততক্ষণই ভয় পাওয়ার আসল রোমাঞ্চ থাকে এবং ‘ভোগ’ সেই অনুভূতি দিতে সক্ষম।
পরিশেষে, দর্শক মনে করেন যারা অডিও স্টোরি শুনেছেন, তাদেরও পরমব্রতর ‘ভোগ’ ভালো লাগবে। তবে এমন এক নারীবাদী দেবীকে আরও ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করার সুযোগ ছিল বলে দর্শকের মত। ‘ভোগ’ মূলত ভয় পাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি মনস্তাত্ত্বিক, এমনটাই মনে করছেন দর্শক।
রেটিং: ৩.৫/৫







