আইএসসি পরীক্ষায় ৪০০-এ ৪০০ পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন কলকাতার সৃজনী। তারপর থেকেই রিজেন্ট পার্কের ফিউচার ফাউন্ডেশন স্কুলের পড়ুয়া সৃজনী বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে। কিন্তু তাঁর নামের পাশে কখনও পদবী ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এমনকি স্কুলের খাতা বা পরীক্ষার মার্কশিট-এও লেখা নেই পদবী। সব রহস্যভেদ করে আসল কারণ সমাজমাধ্যমে জানালেন সৃজনী নিজেই।
সৃজনী জানায়,”আমি এমন একটা সমাজে বিশ্বাস করি, যা জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ বা অর্থনৈতিক অবস্থার বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ভাববে। আমার কাছে তাই পদবি কোনও আলাদা গুরুত্ব পায় না। আমি সবসময় সকলের কাছে আমার প্রথম নাম দিয়েই পরিচিত।” সৃজনী পদবী ব্যবহার না করলেও তাঁদের এলাকায় তাঁরা গোস্বামী পরিবার বলেই পরিচিত। তাঁর বাবা দেবাশিস গোস্বামী পেশায় অধ্যাপক এবং বর্তমানে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট (আইএসআই)-র সঙ্গে যুক্ত। সৃজনীর মা গোপা মুখোপাধ্যায়’ও ফুলবাগানের গুরুদাস কলেজে ইতিহাসের অধ্যাপিকা। পদবি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত প্রথম নেন তাঁরাই। তাঁরা শুরুতেই তাঁদের দুই মেয়ের জন্মপত্র আবেদনের সময় পদবির উল্লেখ করেননি। গোপাদেবীর কথায়,”আমরা যে মূল্যবোধ এবং বিশ্বাস আমাদের মেয়েদের মনে গেঁথে দিয়েছি, তাঁরাও সেই চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। আমরা এমন একটি পরিবারের স্বপ্ন দেখি যেখানে পুরুষতন্ত্র বা উগ্রতাবাদের কুসংস্কার থাকবে না।”
আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটা থেকে রাত দখলের জমায়েতে গিয়ে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দেওয়া, কোনোটাই বাদ দেননি সৃজনী। দ্বাদশে পদার্থবিদ্যা, গণিত এবং রসায়নের পাশাপাশি ইংরেজি ছিল তাঁর আবশ্যিক বিষয়। ভবিষ্যতে গণিত বা পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করে সেখানেও গতানুগতিকতার বাঁধ ভাঙতে চান সৃজনী।







