৫ অগস্টকে সামনে রেখে গোটা বাংলাদেশে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। সম্ভাব্য জঙ্গি বা নাশকতামূলক হামলার আশঙ্কায় দেশের সব পুলিশ ইউনিটকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বিশেষ করে পুলিশ সদস্য, থানাগুলি এবং পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনকে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ পুলিশের অপারেশন কন্ট্রোল ব্রাঞ্চ থেকে একটি অভ্যন্তরীণ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। যদিও হুমকির উৎস সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে এই সতর্কতা এসেছে ৫ অগস্টের ঠিক আগে। ওই দিনটি ছাত্র আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দুই বছর পূর্তির দিন হওয়ায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বাড়তি সতর্ক রয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, পুলিশ স্টেশন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং পুলিশের গাড়িকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হতে পারে। তাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, চলন্ত বা পার্ক করা— যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, পুলিশের গাড়ির উপর সর্বক্ষণ নজরদারি রাখতে হবে। সিগন্যাল, রাস্তা বা অন্য কোথাও সাময়িকভাবে থামলেও নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখা যাবে না। থানাগুলিতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু পুলিশ নয়, সংবেদনশীল এলাকা, সরকারি দফতর, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং জনবহুল জায়গাগুলিতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা গতিবিধি দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকার একাধিক স্থানে বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মোতিঝিল মেট্রো স্টেশনে একটি পরিত্যক্ত ছাতার নিচে রিমোট-নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। পরে আরও দুটি মেট্রো স্টেশন থেকেও সন্দেহজনক ব্যাগ উদ্ধার হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১০৩টি সক্রিয় বোমা ও আইইডি উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ২ ফেব্রুয়ারি শরীয়তপুরে যৌথ বাহিনী এক অভিযানে ৯৫টি বোমা উদ্ধার করে। এছাড়া ৮ মার্চ ঢাকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের প্রবেশদ্বারের কাছ থেকেও ছয়টি বোমা উদ্ধার হয়েছিল। ধারাবাহিক এই ঘটনাগুলির জেরে ৫ অগস্টকে ঘিরে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।






