এক সময়ের ব্যাটিং দানব, যাঁর উইলো থেকে আসা রান ভারতীয় ক্রিকেটের মেরুদণ্ড ছিল, সেই বিরাট কোহলির টেস্ট কেরিয়ারের শেষ পাঁচ বছর যেন এক মরণব্যাধির প্রতিচ্ছবি। ২০১৯ সালের পুণে টেস্টে ২৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলার পর যখন কোহলির গড় ছিল ৫৫.১০—ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ—তখন কেউ ভাবতেও পারেননি, সময়ের সঙ্গে এতটা পিছিয়ে পড়বেন তিনি।
কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম। ২০২৪ সালে অবসরের সময় কোহলির টেস্ট গড় দাঁড়ায় ৪৬.৮৫-তে। এই পতনের মূলে রয়েছে শেষ পাঁচ বছরে ৩৯টি টেস্টে ধারাবাহিক ব্যর্থতা। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে দুর্বলতা, ভুল শটের প্রতি ঝোঁক এবং মানসিক ক্লান্তি—সব মিলিয়ে এক সময়ের আগুনে ব্যাটার যেন হয়ে উঠলেন ছায়া নিজস্বতার।
অন্যদিকে, শতরানের জন্য দীর্ঘ বিরতিগুলো হয়ে দাঁড়ায় তাঁর ফর্মহীনতার প্রতীক। ইডেনে ১৩৬ রানের ইনিংসের পর চার বছর একটিও শতরান না পাওয়া, তারপর মাত্র দু’টি শতরান করে আবার লম্বা খরা—এই ওঠা-নামার পথটাই কোহলিকে দুর্বল করে তোলে টেস্ট মঞ্চে। পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শতরানই থেকে যায় তাঁর শেষ।
ভারতের হয়ে ১০০-র বেশি টেস্ট খেলা কিংবদন্তিদের মধ্যে সচিন (৫৩.৭৮), দ্রাবিড় (৫২.৬৩) ও গাওস্কর (৫১.১২)-এর ধৈর্য ও টেকসই মানসিকতা কোহলির থেকে আলাদা করেছে তাঁদের। বীরেন্দ্র সহবাগেরও গড় (৪৯.৪৩) কোহলির চেয়ে বেশি।
বিশ্ব ক্রিকেটের চার মহারথীর তালিকায় থাকা উইলিয়ামসন, স্মিথ, রুটের সবার গড়ই পঞ্চাশের ওপরে। কোহলিই একমাত্র যিনি সে মান ধরে রাখতে পারেননি। তাঁর ব্যর্থতার এই পাঁচ বছরই তাঁকে ‘গ্রেটদের গড়’ থেকে ছিটকে দিয়েছে।
বিরাট কোহলির কেরিয়ার নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। কিন্তু শেষ পাঁচ বছর প্রমাণ করে, শুধুমাত্র প্রতিভা নয়—ধারাবাহিকতাই কিংবদন্তি হওয়ার আসল চাবিকাঠি।







