অরিজিতের সামনে শুধু কিশোর কুমার, মহম্মদ রফির রেকর্ড ভেঙে কেরিয়ারের সাত নম্বর ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতে নিলেন অরিজিৎ সিং। ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির কেশরিয়া গানের জন্য কেরিয়ারের সপ্তম ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতলেন গায়ক।
প্রত্যাশা ছিল আগেই থেকেই, সেই মতোই চলতিবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার উঠল অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)-এর হাতে। এই নিয়ে কেরিয়ারের ৭ নম্বর ফিল্মফেয়ার জিতে নিলেন জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র। ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির ‘কেশরিয়া’ গানের জন্য সেরার শিরোপা উঠল অরিজিতের হাতে।
ফিল্মফেয়ার ২০২৩-এর আসরের নমিনেশন তালিকায় তিনটে গানের জন্য মনোনীত ছিলেন অরিজিৎ, বর্তমানে বলিউডে অরিজিতের কম্পিটিশন তিনি নিজে, একথা বললে খুব একটা অত্যুক্তি করা হয় না। ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির ‘কেশরিয়া’ ছাড়াও ‘দেবা দেবা’ এবং ‘ভেড়িয়া’ ছবির ‘আপনা বনালে পিয়া’ গানের জন্য মনোনীত ছিলেন অরিজিৎ। গত বছরের সবচেয়ে ট্রেন্ডিং গান ‘কেশরিয়া’র জন্য পুরস্কৃত হলেন গায়ক। প্রীতমের সুরে সাজানো এই গানের গীতিকার অমিতাভ ভট্টাচার্য। গানের মহিলা কন্ঠ নিকিতা গান্ধীর।
ইউটিউবে অফিসিয়্যাল ভিডিয়োতেই এই গানের ভিউ সংখ্যা প্রায় ৪৫ কোটি। ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির সবচেয়ে জনপ্রিয় গান এটি। অরিজিতের পাশাপাশি চলতি বার সেরা গায়কের দৌড়ে ছিলেন সোনু নিগম (মেয় কিঁ করা, লাল সিং চড্ডা) এবং অজয় যোধপুরকর (মাংগে মঞ্জুরিয়া)। ‘তুম হি হো’ (২০১৪( গানের জন্য কেরিয়ারের প্রথম ব্ল্য়াক লেডি হাতে উঠেছিল অরিজিতের। এরপর একটানা পাঁচবার ফিল্মফেয়ার জয়ের বিরল নজির গড়েছিলেন অরিজিৎ। ২০১৬ সালে ‘ইয়ে দিল হ্য়ায় মুশকিল’-এর জন্য সেরার স্বীকৃতি আসে গায়কের ঝুলিতে, এরপর ‘সূরজ ডুবা হ্য়ায়..’ (২০১৭), ‘রোকে না রুকে নয়না’ (২০১৮), ‘ইয়ে বতন’ (২০১৯) এবং ‘কলঙ্ক’ (২০২০) গানের জন্য বলিউডের অন্যতম সম্মানীয় ও ঐতিহ্যশালী ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন অরিজিৎ। যা এক অনন্য নজির। একমাত্র কুমার শানুর ঝুলিতে রয়েছে এই রেকর্ড। অন্যদিকে প্লে-ব্য়াক গায়ক হিসাবে সর্বোচ্চ সংখ্য়ক ফিল্মফেয়ার পুরস্কারের রেকর্ড রয়েছে কিশোর কুমারের ঝুলিতে (৮টি), এই ইতিহাসিক রেকর্ড থেকে মাত্র একধাপ পিছিয়ে অরিজিৎ সিং। গত দু-বছর রাঘব চৈতন্য় ও বি-প্রাকের কাছে হারতে না হলে এতদিনে এই রেকর্ড ভেঙে দিতেন অরিজিৎ। চলতিবার নিজের হারানো মুকুট পুনরুদ্ধার করলেন ‘কেশরিয়া’ গায়ক।
এছাড়াও এদিন বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কৃতদের নাম ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। এই অনুষ্ঠান থেকে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী নিজেকে দূরে রাখেন! পুরস্কার বয়কট করে দেন তিনি। বাকিরা কে কোন বিভাগে সন্মানিত তার তালিকা নিম্নরূপ –
গাঙ্গুবাঈ কাথিয়াওয়াড়ি-
সেরা কস্টিউম ডিজাইন: শীতল ইকবাল বর্মা
সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন: সুব্রত চক্রবর্তী এবং অমিত রায়
সেরা চিত্রগ্রাহক: সুদীপ চক্রবর্তী
সেরা ব্যাকগ্ৰাউন্ড স্কোর: সঞ্চিত বলহারা, অঙ্কিত বলহারা
সেরা সাউন্ড ডিজাইন: বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জি (ভুল ভুলাইয়া ২)
সেরা অ্যকশন: বিক্রম ভেদার জন্য পারভেজ শেখ
সেরা ভিএফএক্স: ব্রহ্মাস্ত্রের জন্য ডিএনইজি রিডিফাইন
সেরা মহিলা প্লেব্যাক সিঙ্গার: ‘রঙ্গি সাড়ি’-র জন্য দেওয়া হয় কবিতা শেঠ-কে
এছাড়াও ছিল আরও বিভিন্ন পুরস্কার।







