সমসাময়িক সমাজ, আত্মকথন এবং গানের সংমিশ্রণে তৈরি রূপম ইসলামের একক অনুষ্ঠান মানেই এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। এবারেও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আজ, ৩১ মে বিকেল পাঁচটায়, কলকাতার ঐতিহাসিক কলামন্দির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রূপম ইসলামের একক অনুষ্ঠান, যা এবার এক অনন্য আবেগঘন মুহূর্তকে স্মরণীয় করে তুলবে। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘হোমকামিং’, ঠিক তেমনই এক আবর্তনে ফিরছেন রূপম।
১৯৯৫ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর, এই কলামন্দিরেই ঘটে গিয়েছিল এক অনভিপ্রেত ঘটনা। তরুণ রূপম তখন তাঁর নিজস্ব গান নিয়ে মঞ্চে উঠেছিলেন, কিন্তু বাংলা রকে অনভ্যস্ত শ্রোতাদের একাংশ সেদিন ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্চে উঠে এসে বাধা দেন পারফরম্যান্সে। তাঁকে গানের মাঝপথে থামতে বাধ্য করা হয়। কটূক্তি, হুমকি এবং এক রকম জোর করে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয় মঞ্চ থেকে। সেদিন তাঁকে শুনতে হয়েছিল,”বাংলায় রক হয় না। গান না থামালে মার খেতে হবে।” এই ঘটনার মধ্য দিয়েই রূপম ইসলাম শুরু করেন তাঁর বাংলা রক সংগীত যাত্রা।
আজ, প্রায় তিরিশ বছর পর, সেই একই মঞ্চে তিনি ফিরছেন আরও পরিণত, আরও প্রতিষ্ঠিত এক শিল্পী হিসেবে। গানে, কথায়, স্মৃতিতে এবং আত্মউন্মোচনে এই একক অনুষ্ঠান ঘিরে উচ্ছ্বসিত রূপম ভক্তরা। এছাড়াও, এবারের একক অনুষ্ঠানে আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। রূপম ইসলামের আগের একক ‘খাস একক’ এর সাফল্যের পর বহু শ্রোতা-দর্শক আক্ষেপ করেছিলেন যে তাঁরা অনুষ্ঠানটি মিস করেছেন। সেই আক্ষেপ থেকেই তাড়াতাড়ি আয়োজিত হচ্ছে ‘খাস একক ২’।
রূপম ইসলাম নিজেই বলেন,”আমরা বেশিরভাগ সময়ই একটা একক শেষ করে আরেকটা এককের আয়োজন দ্রুত করে উঠতে পারিনি। তার অনেক রকম কারণ আছে। একটা বড় কারণ, এতদিন আমরা এককের জন্য তেমন করে স্পনসরশিপ গ্রহণে বিশ্বাসী ছিলাম না। ‘খাস একক ২’ স্বাভাবিকভাবে হয়তো একবছর পরে করা হত। কিন্তু বোরোলীন পরিবার আগের খাস একক মিস করা আগ্রহী দর্শক-শ্রোতাদের অতটা অপেক্ষায় রাখতে চাননি।” রূপম ইসলামের এই ‘হোমকামিং’ কেবল একটি পারফরম্যান্স নয়, বরং বাংলা রক সংগীতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ পুনর্মিলন।







