বিজেপির রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার কেন্দ্রে এলেন দিলীপ ঘোষ। তবে দলীয় কর্মসূচিতে নয়—অনুপস্থিতির কারণেই এবার চর্চার কেন্দ্রে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির নাম। অমিত শাহের সাম্প্রতিক কলকাতা সফরে একাধিক কর্মসূচি থাকলেও কোথাও দেখা গেল না দিলীপ ঘোষকে। শুধু তাই নয়, নেতাজি ইন্ডোরে আয়োজিত সভাতেও তিনি ছিলেন ব্রাত্য। অথচ বাংলায় বিজেপির উত্থানের ইতিহাসে তাঁর নাম যে অগ্রগণ্য, তা অস্বীকারের জো নেই।
দিলীপবাবু নিজেও এ নিয়ে মুখ খুলেছেন। সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “আগে যেতাম। তখন সভাপতি ছিলাম। উনি এলে স্বাগত জানাতাম, সঙ্গে থাকতাম। এখন অন্যরা সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আমি এখন কার্যকর্তাদের সঙ্গেই থাকি। বড় নেতারা যদি না ডাকেন, আমি যাই না। ওঁদেরও একটা মানসম্মান থাকে।”
এদিকে, শাহ যখন নেতাজি ইন্ডোরে জনসভা করছেন, তখন দিলীপ ঘোষ রয়েছেন একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে—মামাশ্বশুরবাড়িতে জামাইষষ্ঠীর ভুরিভোজে। দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর বাড়ির বাইরে বেরতেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু ঘোষ। অমিত শাহের সভায় দিলীপবাবুর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রিঙ্কু স্পষ্ট জানান, “উনি তো এখন কমিটিতে নেই। তাহলে কেন ডাক পাওয়ার আশা করবেন? এরপর কিছু বলার থাকলে, যাঁরা সাংগঠনিক পদে আছেন, তাঁরাই বলবেন। আমার আর কিছু বলার নেই।”
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। দিলীপ ঘোষকে কি সত্যিই দলের মূল স্রোত থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে? না কি এ কেবল এক সাময়িক দূরত্ব? উত্তর সময়ই দেবে। তবে বাংলায় বিজেপির রাজনীতির গতিপথ যে ক্রমেই নাটকীয় মোড় নিচ্ছে, তাতে সন্দেহ নেই।







