একটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে উড়ে যাওয়ার মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী বোয়িং ৭৮৭ বিমানটি (ফ্লাইট নম্বর AI-171)। সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দুর্ঘটনায় ২৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিমানে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিও। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা দেশে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এখনও পর্যন্ত নিহতদের দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি, সকলেই নিহত হয়েছেন নাকি কেউ গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন।
সূত্র অনুযায়ী, বিমানের পিছনের দিকটি একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে ভারসাম্য হারায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই আকাশ থেকে ভেঙে পড়ে। বিশাল সংখ্যক প্রাণহানিতে প্রশ্ন উঠছে, বিমানটি কি কোনও ভাবে রক্ষা করা যেত? এই মুহূর্তে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই বিমানের প্রধান চালক সুমিত সবরওয়াল অত্যন্ত অভিজ্ঞ, তাঁর উড়ান অভিজ্ঞতা ৮ হাজার ঘণ্টারও বেশি। তিনি বিমান প্রশিক্ষকও ছিলেন। দ্বিতীয় চালকও কম অভিজ্ঞ নন, তাঁর হাতে রয়েছে ১১০০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা। বিমানের বয়সও বেশি নয়, মাত্র ১১ বছর হয়েছে বোয়িং ৭৮৭-এর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা দেশের মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিল ১৫ বছর আগে ম্যাঙ্গালোরে ঘটে যাওয়া সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাকে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৫৮ জন। বর্তমানে গোটা দেশ এই হৃদয়বিদারক ঘটনার দিকে তাকিয়ে। নিহতদের প্রতি গভীর শোকপ্রকাশ এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হচ্ছে সর্বত্র থেকে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে হয়তো পরিস্কার হবে, কীভাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হল ভারতীয় বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা।







