নিজস্ব প্রতিবেদন:
শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্য বিধানসভার প্রতিটি প্রবেশদ্বারে চোখে পড়ার মতো কড়া নিরাপত্তা। শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে সমস্ত বিধায়কের গাড়িই থামিয়ে একের পর এক তল্লাশি— বনেট থেকে ডিকি, ডিকির ভিতরের ব্যাগ— কোনও কিছুই বাদ যাচ্ছে না। যেন কোনও হাই-অ্যালার্ট জোনে প্রবেশ!
এমন দৃশ্য রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। আর তাই স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা তুঙ্গে— হঠাৎ এত কঠোর নিরাপত্তা কেন? কোথাও কোনও হুমকি এসেছে কি? নাকি কোনও বড়সড় তথ্য আছে পুলিশের কাছে?
দিনভর এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে বিধানসভা পেরিমিটারের বাইরে ও ভিতরে। বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন, শাসকেরাও বিস্মিত। অতীতে এমন নজির নেই বলেই জানান একাধিক প্রবীণ বিধায়ক। কিন্তু সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে স্পিকারের সাফ ঘোষণা— “এটা একদিনের জন্য নয়, নিয়মিত হবে।”
স্পিকারের স্পষ্ট বার্তা, “এটা কোনও অনভিপ্রেত বার্তা নয়। নিরাপত্তা রক্ষীরা যা যা চেক করা দরকার, তা করবেনই। এটাই নিয়ম হবে। এটা কোনও কারও ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং সমষ্টিগত নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ।”
তিনি আরও বলেন, “এটা একটা গম্ভীর জায়গা— সরকার, বিরোধী দুই পক্ষেরই প্রতিনিধিরা আসেন এখানে। আমরা চাই না এমন কিছু হোক যাতে এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা স্থিতাবস্থা বিঘ্নিত হয়।”
তবে নিরাপত্তা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ঠাট্টার ছায়া ফেলতেও দেরি হয়নি। বিজেপির একাধিক বিধায়ক কটাক্ষ করে বলেন, “তুলসি গাছ নিয়ে ঢুকে পড়ব বলেই বোধহয় এত সাবধানতা!”
উত্তরে স্পিকারের তির্যক মন্তব্য, “তুলসি-টুলসি আমি কিছু জানি না। হিন্দুদের বাড়িতে তুলসি মঞ্চ থাকতে পারে, কিন্তু বিধানসভায় তুলসি মঞ্চের কোনও স্থান নেই।”
এই বক্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঢেউ।
নিরাপত্তা না কি প্রতিহিংসা— প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বিরোধীরা। তবে স্পষ্টতই বিধানসভা এখন থেকে চলবে নতুন নিয়মে, আর সেই নিয়মের কেন্দ্রে থাকবে ‘কড়া নিরাপত্তা’, কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই।







