সমুদ্রতট জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই স্বপ্নের প্রাসাদ ‘মন্নত’—যেটা শুধু একতারার মতো বেজে চলে শাহরুখ খানের হৃদয়ে, আজ তা আইনি জটিলতার মুখে। বলিউডের বাদশা আপাতত নিজের ‘সিংহাসন’ ছেড়ে উঠেছেন ভাড়া বাংলোয়। কারণ? মন্নতের বহুল আলোচিত সংস্কার ঘিরে উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।
বন দফতর ও বৃহন্মুম্বই পুরসভা যৌথভাবে পাঠিয়েছে নোটিস, কারণ শাহরুখ খান নাকি ভেঙে ফেলেছেন উপকূলীয় অঞ্চল সংরক্ষণের নিয়ম। বেআইনি সংস্কারের অভিযোগ পেয়ে মন্নতে হানা দিয়েছে দুই দফতর। তবে খান পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো মন্তব্য মেলেনি।
তথ্য বলছে, বেশ কিছুদিন আগে মন্নতের সংস্কার ও নতুন নির্মাণের জন্য মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটির অনুমতি চেয়েছিলেন গৌরী খান। অনুমতি মেলায় মে মাস থেকেই শুরু হয়েছে মন্নতের মেরামতির কাজ। আর সেই কারণেই পালি হিল এলাকায় উঠেছেন এক অস্থায়ী আবাসে—প্রযোজক বাসু ভাগনানির বাংলোয়, যার মাসিক ভাড়া ২৫ লক্ষ টাকা!
‘মন্নত’ নিয়ে শাহরুখের সম্পর্ক নিছক বাড়ির মালিকানায় সীমাবদ্ধ নয়—এ এক অদম্য স্বপ্নের পূরণ। এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ জানিয়েছিলেন, স্ট্রাগলের সময় মুম্বইয়ে পা রেখে এই বাংলোর পাশ দিয়েই প্রতিদিন যেতেন তিনি। তখনই মনে মনে বলেছিলেন—“যদি কখনও সুপারস্টার হই, এই বাংলোটা আমার হবে।”
তবে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নে বারবার বাঁধা এসেছে আইনের বেড়াজালে। ২০০১ সালে ‘খোরশেদ ভানু সঞ্জনা ট্রাস্ট’-এর কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য গ্রেড-৩ হেরিটেজ তালিকাভুক্ত এই বাংলোটি লিজে নিয়েছিলেন শাহরুখ। হেরিটেজ আইন অনুযায়ী এই ধরনের সম্পত্তিতে কোনও কাঠামোগত পরিবর্তনের অনুমতি নেই।
২০১৯ সালে মন্নতের লিজহোল্ড মালিকানা স্থায়ীভাবে শাহরুখের নামে হস্তান্তরের সময় মুম্বইয়ের সাবআর্বান কালেক্টরের অফিস একটি গুরুতর প্রশাসনিক ভুল করে ফেলে। সেই ভুলের প্রেক্ষিতে আজ নতুন করে আলোচনায় এসেছে মন্নতের সংস্কার সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙার অভিযোগ।
বলিউডের ইতিহাসে ‘মন্নত’ যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি—সাধের স্বপ্ন, সংগ্রামের স্মৃতি এবং সাফল্যের প্রতীক। তবে এবার সেই মন্নতই যেন পরিণত হয়েছে এক নতুন যুদ্ধক্ষেত্রে—স্বপ্নের সঙ্গে আইনের লড়াইয়ের।
বাদশার প্রাসাদ কি এবার নিয়মের বেড়াজালে থমকে যাবে? নাকি শাহরুখ খানের মতো লড়াকু একজন মানুষ ফের প্রমাণ করবেন—স্বপ্ন যদি হয় দৃঢ়, তবে বাধা কেবল সাময়িক? সময়ই দেবে উত্তর।







