দারকেশ্বর নদ যেন আজও স্তব্ধ, নিঃশব্দে সাক্ষী এক ভয়াবহ ঘটনার। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের ৮-৯ জন পড়ুয়া বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে গিয়েছিল নদীর ধারে। স্কুল পালিয়ে সাইকেলে চেপে পৌঁছে গিয়েছিল সুভাষপল্লী ঘাটে। নদী তাদের কাছে ছিল শুধু জল, আনন্দ, আর একটুখানি অ্যাডভেঞ্চার। কিন্তু সেই সাঁতারের আনন্দ মুহূর্তেই রূপ নেয় মৃত্যুঝড়ে।
নবম শ্রেণীর তিন পড়ুয়া—অর্কদীপ দাস, সায়ন চ্যাটার্জী ও পরমেশ্বর মিশ্র যখন জলে নামে, তখন কেউ কল্পনাও করেনি এই দিনের ভয়াবহ পরিণতি। আচমকা গভীর জলে চলে গিয়ে তিনজনেই নিখোঁজ হয়ে যায়। সহপাঠীদের চেষ্টায়, স্থানীয়দের চেষ্টাতেও বাঁচানো যায়নি তাদের।
বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্স টানা তল্লাশি চালায়। অবশেষে আজ সকালে নদীর কিছুটা দূরে ভেসে ওঠে প্রথম একটি দেহ। কিছুক্ষণ পর আরেকটি। অর্কদীপ ও পরমেশ্বরের নিথর দেহ উদ্ধার হলেও এখনও নিখোঁজ সায়ন।
এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা বিষ্ণুপুর। কাঁদছে সহপাঠীরা, আতঙ্কে দিশেহারা অভিভাবকরা। প্রধান কার্তিক লোহার ও বিডিও সোমশঙ্কর মন্ডল জানিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তৃতীয় পড়ুয়ার খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনার পর নদী ঘাটে নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ দারকেশ্বর যেন শুধুই জল নয়, এক শোকগাথা।







