কলকাতারাজনীতি

“ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে গুলি করা উচিত!” কসবা কাণ্ডে কল্যাণের বিস্ফোরক মন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদন: কসবা ল কলেজ ধর্ষণ কাণ্ডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একাধিক নেতার নাম জড়ানো ঘিরে উত্তাল রাজ্য। আর এবার সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রীরামপুরে এক দলীয় কর্মসূচি থেকে দলেরই ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিলেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী সাংসদ।

কল্যাণের সাফ কথা, “আইন না থাকলে ওদের ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে গুলি করে মারা উচিত। যারা ধর্ষণে জড়িত, তাদের ফাঁসি হওয়া উচিত। আইন আছে বলেই আজ তারা বেঁচে যাচ্ছে।”

শুধু তাই নয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও জানান তিনি। কল্যাণের আক্ষেপ, “এতদিন ধরে দল করছি। এমন বিকৃত মানসিকতার লোক তৃণমূলে থাকবে কেন? যারা এমন ঘৃণ্য অপরাধ করেছে, তাদের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। এদের বার করে দিলে মানুষই খুশি হবে।”

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতিফলিত হয়েছে ছাত্র রাজনীতির বর্তমান চেহারা নিয়ে গভীর হতাশা। তিনি বলেন, “একজন উকিল ছাত্রনেতা যদি সহকর্মী ছাত্রীকে ধর্ষণ করে, তাহলে তার ফাঁসি হওয়া উচিত। যারা পাশে ছিল বা চুপ করে ছিল, তারাও সমান দোষী। ওদের কোনও নীতিবোধ নেই, কোনও দায়িত্ব নেই।”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করেই কটাক্ষ করেছেন ছাত্র পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বকে। প্রশ্ন তুলেছেন, “কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও সন্ধে ছ’টার পর সেখানে যারা ঘোরাফেরা করে, তারা কী করছে? দলের কী উপকার করছে?”

তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, এমন স্পষ্ট বার্তা দেওয়া উচিতই ছিল, দলকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে। আবার অনেকের প্রশ্ন, একজন সাংসদ কি প্রকাশ্যে আইনকে অতিক্রম করে এমন ‘গুলি করে মারা উচিত’ মন্তব্য করতে পারেন?

তবে যাই হোক, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই স্পষ্ট অবস্থান নিঃসন্দেহে কসবা কাণ্ডে রাজনৈতিক তরজার মোড় ঘুরিয়ে দিল। এখন দেখার, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করতে তৃণমূল নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.