কসবাকাণ্ডে রাজ্যজুড়ে যখন ক্ষোভ তুঙ্গে, ঠিক তখনই গর্জে উঠল অভয়া মঞ্চ। শনিবার গড়িয়াহাট থেকে শুরু হওয়া মিছিলের পথ চলা ছিল সুশৃঙ্খল। কিন্তু লেক মলের সামনে পৌঁছতেই নাটকীয় মোড় নেয় পরিস্থিতি। পুলিশের তরফে জানানো হয়, অনুমতি ছাড়া মিছিল এগোতে দেওয়া যাবে না। ব্যাস, শুরু বিতর্ক— রাস্তায় নামলেন চিকিৎসক, শিল্পী, সমাজকর্মীরা। ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠলেন শ্রীলেখা মিত্র।
“আমাদের পকেটে বোমা নেই, তাহলে ভয়টা কিসের?”
— পুলিশের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন অভিনেত্রীর।
ডাক্তারদের পক্ষ থেকে অনুরোধ বারবার, “দড়ি পেরোবেন না, আইন ভাঙবেন না”, কিন্তু প্রতিবাদের আগুনে তখন ফুঁসছে জনতা। ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রীলেখা বলেন, “এটা কি হীরক রাজার দেশ? এখানে কি কেউ মুখ খুলতে পারবে না?” এমনকী, ব্যারিকেডে উঠেও পড়তে চান অভিনেত্রী। তাঁকে নিরস্ত করেন ডাক্তাররা, সরিয়ে আনতে চান সহকর্মীরাও। কিন্তু শ্রীলেখার স্পষ্ট বার্তা, “পুলিশ আমাদের সুরক্ষা নয়, খুনিদের সুরক্ষা দেয়। আমরা কি ঠুঁটো জগন্নাথ?”
তাঁর প্রশ্ন—
“আপনার বাড়িতে যদি এমনটা ঘটত? মাস মাইনের জন্য কতটা বিক্রি হয়ে যাওয়া যায়? শিরদাঁড়া নেই কেন?”
শুধু কসবাকাণ্ড নয়, শ্রীলেখার ক্ষোভে উঠে আসে কালীগঞ্জের ছোট্ট তামান্নার নামও। বলেন, “কত মেয়ে মরবে, আর কত মুখে কুলুপ আঁটা থাকবে? এটা কি গণতন্ত্র?”
এই প্রতিবাদ শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনায় নয়। এ এক বিস্ফোরণ— সমাজের, সিস্টেমের, নীরবতার বিরুদ্ধে। রাজ্যের রাজপথে এই দৃশ্য যেন স্পষ্ট করে দিচ্ছে— মানুষ আর চুপ থাকতে চায় না। আর চুপ থাকবে না।
“বিচার চাইতে যদি প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়, আমরা প্রস্তুত।”
— এই এক কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায় আজকের মিছিল ছিল শুধু পা ফেলার আন্দোলন নয়, ছিল গর্জে ওঠার, দমবন্ধ রাজনীতির মুখে থাপ্পড় দেওয়ার দিন।
শ্রীলেখা মিত্রর সেই গর্জন এখন সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তুলছে। প্রশ্ন, প্রতিবাদ আর বিবেকের সুর মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জ্বলে উঠছে এক নতুন আগুন।







