ভারতীয় ক্রীড়াজগতে যেন একের পর এক বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা ঘটছে। কুস্তির পর এ বার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল দেশের অন্যতম গর্ব, বক্সিং-কে ঘিরে। হরিয়ানার রোহতকে ‘ন্যাশনাল বক্সিং অ্যাকাডেমি’-তে এক নাবালিকা বক্সারের অভিযোগে তোলপাড় ক্রীড়ামহল। স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (সাই)-এর অধীনস্থ এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত এক মহিলা কোচের বিরুদ্ধেই উঠেছে গুরুতর অভিযোগ।
রোহতক থানায় দায়ের করা এফআইআরে অভিযোগ, অভিযুক্ত কোচ তাঁকে একাধিক বার হেনস্তা করেছেন। একবার সকলের সামনে জামাকাপড় খুলতে বাধ্য করেন। শুধু তাই নয়, তাঁর চরিত্র নিয়েও কুৎসা রটিয়ে কেরিয়ার ধ্বংসের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ। এর জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন ওই কিশোরী, বাধ্য হন পুলিশের শরণাপন্ন হতে। ভারতের ন্যায়সংহিতার ১১৫ ও ৩৫১ ধারা, সঙ্গে পকসো আইনেও মামলা হয়েছে, যদিও অভিযুক্ত এখনও গ্রেফতার হননি।
সাই ও বক্সিং ফেডারেশন জানায়, তাদের কাছেও অভিযোগ জমা পড়েছে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ তদন্তে তারা কোনও প্রমাণ পায়নি। তাই অভিযুক্ত কোচ এখনও যুব শিবিরে দায়িত্বে আছেন। প্রশ্ন উঠছে—তদন্তের স্বচ্ছতা ও প্রক্রিয়া নিয়ে।
কুস্তিতে ব্রিজভূষণ সিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই বক্সিংয়ে এই ঘটনা ক্রীড়াঙ্গনে ন্যায় ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। কাঠগড়ায় শুধু এক কোচ নয়, গোটা ক্রীড়া ব্যবস্থার দায়বদ্ধতাই।







