নৈহাটি স্টেডিয়ামে শনিবার ইস্টবেঙ্গল যেন হার-জিত নয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্কটে লড়তে নেমেছিল। শুরুতে দু’গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরল ঠিকই, কিন্তু তা মানরক্ষা করল না, বরং ফের একবার লাল-হলুদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। কাস্টমসের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে এক পয়েন্ট পেলেও হারিয়ে ফেলল সম্ভাবনার অনেকটাই।
খেলার শুরুর ২২ মিনিটের মধ্যেই ইস্টবেঙ্গল হজম করে দু’টি গোল। রক্ষণভাগের দিশাহীনতা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং ধীরগতির প্রতিক্রিয়া দেখে হতভম্ব সমর্থকরা। প্রথম গোল আসে পেনাল্টি থেকে, যেখানে চাকু মান্ডির ফাউলে গোল করেন শিলক তিওয়ারি। তার কিছুক্ষণ পরই সৌরভ সেনের গোলে ব্যবধান বাড়ায় কাস্টমস। ইস্টবেঙ্গল মিডফিল্ড কিংবা আক্রমণভাগ—কোনো জায়গা থেকেই প্রথমার্ধে প্রতিরোধ তৈরি হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচ বিনো জর্জ বেশ কয়েকটি পরিবর্তনে আক্রমণে গতি আনেন। তার ফলও মেলে। ৬০ মিনিটে অনন্থুর গোল এবং ৭০ মিনিটে প্রভাত লাকরার শট দলকে সমতায় ফেরায়। শেষদিকে একচেটিয়া দাপট দেখিয়েও তৃতীয় গোল অধরাই থেকে যায়। শেষ সময়ের বেপরোয়া চাপ সামলাতে কাস্টমস রীতিমতো জেরবার হলেও তা যথেষ্ট হয়নি জয় নিশ্চিত করতে।
ম্যাচ শেষে হতাশ কোচ বিনো জর্জ খোলাখুলি নিজের দায় স্বীকার করেছেন। বলেন, “সুযোগ নষ্ট করেছি, নিজেই ভুল করেছি।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এটাই কি সেই ঐতিহ্যবাহী ইস্টবেঙ্গল যার কাছে সমর্থকরা মরিয়া হয়ে আশাবাদী ছিল? পয়েন্ট পেলেও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে লাল-হলুদ শিবির।







