ক্রিকেটের তীর্থভূমি লর্ডসে যেন রুদ্ধশ্বাস এক নাটক দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ়ের তৃতীয় টেস্টে ভারতের হার শুধুই পরিসংখ্যান নয়, আরও গভীর কিছু। জয়ের জন্য ১৯৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৭০ রানে গুটিয়ে গেল ভারত। শেষদিকে জাডেজা, বুমরাহ ও সিরাজের জেদি প্রতিরোধ সত্ত্বেও ২২ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ়ে ২-১ এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।
শেষ দিনের শুরুতে ভারতের দরকার ছিল ১৩৫ রান, ইংল্যান্ডের চাই ৬ উইকেট। পন্থ, রাহুল, ওয়াশিংটন দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়ায়। ১১২ রানে ৮ উইকেট পড়ে গেলে ভরসা ছিলেন কেবল জাডেজা। তাঁকে সঙ্গ দেন বুমরাহ ও সিরাজ। নবম উইকেটে ৩৫ ও দশম উইকেটে ১৩ ওভার টিকে থাকলেও, রক্ষা হয়নি। জাডেজা অপরাজিত ৬১-এ লড়লেন বটে, তবে একার প্রচেষ্টা যুদ্ধ জেতাতে যথেষ্ট হল না।
আসলে সমস্যা গভীরে। প্রথম ইনিংসে ভারত ও ইংল্যান্ড সমান ৩৮৭ রান করলেও পার্থক্য গড়ে দেয় শেষ তিন উইকেট। ইংল্যান্ড সেখানে তোলে ১১৬ রান, ভারত মাত্র ১১। এখানেই ভারতের ব্যাটিং লেজের দুর্বলতা প্রকট হয়ে ওঠে। বারবার লোয়ার মিডল অর্ডার ও দ্বিতীয় সারির বোলাররা ব্যর্থ। গম্ভীরের অধীনে সাপোর্ট সিস্টেম ভেঙে পড়ছে।
শুভমনের নেতৃত্বে আগ্রাসনের অভাব নেই, কিন্তু কৌশল ও একাগ্রতায় ঘাটতি চোখে পড়ছে। কোহলি-রোহিতহীন এই দলে ব্যাটিং গভীরতা নেই। বোলিংয়েও ধারাবাহিকতা কম। সিরিজ়ে দ্বিতীয় বার পিছিয়ে পড়া প্রমাণ করল—শুধু শরীরী ভাষা নয়, টেস্টে জিততে হলে চাই স্থির মানসিকতা, গভীর পরিকল্পনা ও টানা পারফরম্যান্স।
গম্ভীর বলেছিলেন, সকলের মুখে হাসি ফোটাতে নিজে গম্ভীর থাকেন। কিন্তু এখন সময় এসেছে চিন্তায় গম্ভীর হওয়ার। ব্যাটিং লেজ, মিডল অর্ডার ও নেতৃত্ব—সব দিকেই রদবদল চাই। না হলে ইংল্যান্ডের মাঠে আরও লজ্জাজনক অধ্যায়ের সাক্ষী হতে পারে ভারত।







