বাড়ির আসে পাশের সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে , স্লো পয়জনে স্বামীকে খুনের চেষ্টা ! গ্রেফতার স্ত্রী । খাবারে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো সহ, একাধিক অভিযোগ রয়েছে স্ত্রী এর বিরুদ্ধে। নৈহাটি পুরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে । যা ঘিরে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায় ।
নৈহাটি পুরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের রাজবন্দী গড় এলাকায় বাসিন্দা দেবেশ চট্টোপাধ্যায় (৪৪) । তার স্ত্রী এর নাম রনিতা চট্টোপাধ্যায় । বহুদিন ধরেই অসুস্থ স্বামীর দেখভাল করতেন রনিতা । দেবেশ , বাড়ি থেকে সেরকম একটা বেরোতেন না । কিন্তু ডাক্তার দেখিয়ে , পরীক্ষা করিয়েও তার বিশেষ কোনো রোগও ধরা পড়ছিল না । সম্প্রতি , তার শরীর আরো খারাপ হয়ে পড়ে ।
সূত্রের খবর , গত সোমবার রাতে রনিতা দেবেশকে একটি ইনজেকশন দেন , তারপরেই দেবেশের শরীরে জ্বালা করতে থাকতে এবং তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন । পরে দেখা যায় , দেবেশের শরীরের একটি অংশ পুরো পুড়ে গেছে । সেই সময় দেবেশের এক আত্মীয়া তার বাড়িতে গেলে , প্রথমে তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ । তারপরে তিনি জোর করে ঘরে ঢুকে দেখেন , দেবেশ অচৈতন্য অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন ।
দেবেশের এক আত্মীয় স্বপ্না চক্রবর্তী জানিয়েছেন , “দীর্ঘদিন ধরে শুনছি দেবেশকে ঘর থেকে বেরোতে দেয় না। ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। আমরা জোর করে ওর বাড়িতে ঢুকলে দেখি অচৈতন্য অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে দেবেশ। এরপর ঘটনাটি কাউন্সিলরকে জানিয়ে ঘরে গিয়ে দেখি দেবেশের পেটের বাঁ দিক পুড়ে গিয়েছে। জিজ্ঞাসা করলে বলে স্ত্রী ইনজেকশন দেওয়ার ফলে এমনটা হয়েছে। এরপরই পুলিশকে জানানো হয়।”
দেবেশকে আপাতত , চিকিৎসার জন্য নৈহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । চিকিৎসারত অবস্থায় দেবেশ জানান, “ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ হলেও ফের শরীর খারাপ হচ্ছিল। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টেও সব ভালো। চিকিৎসকও বুঝতে পারছিলেন না। তখন বুঝিনি খাবারের সঙ্গে স্ত্রী ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে আমায় নিস্তেজ করে দিচ্ছিল।” দেবেশ আরো জানান, “শেষ ক’দিন ধরে শরীর খুব খারাপ হয়ে যায়। এরইমধ্যে গত সোমবার রাতে দেখি স্ত্রী হঠাৎ ইনজেকশন দিল। জ্বালায় ছটফট করতে করতে জ্ঞান হারাই। আমাকে যেদিন ইনজেকশন দেয় সেদিন বাড়ির উলটোদিকের সিসি ক্যামেরা রাত ১টায় ভেঙে দিয়েছিলও। এর মানে নিশ্চয়ই অন্য কোনও পরিকল্পনা ছিল।”
সূত্রের খবর , ইতিমধ্যেই দেবেশের স্ত্রীকে স্বামীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে রনিতার কথায় , “দেবেশ ঘুমাচ্ছিল। ভুলভাল বকছিল। ওষুধের দোকান থেকে ইনজেকশন এনে দিয়েছি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইনজেকশন দেওয়াটাই আমার ভুল হয়েছে।”







