১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই, রহস্যঘেরা পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয় টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তাঁর অকালপ্রয়াণ ঘিরে একাধিক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে আজও। আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, সেই জল্পনা সময়ের সঙ্গে মুছে যায়নি। মৃত্যুর দিন সকালে অতিরিক্ত মাদকাসক্ত অবস্থায় তাঁর দেখা মেলার কথাও শোনা গিয়েছিল। তবু সরকারিভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
চার দশক পেরিয়ে এসেও যখন মহুয়ার নাম উঠে আসে, তখন আলোচনায় থাকে তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়শৈলী এবং একইসঙ্গে তাঁর বিতর্কিত ব্যক্তিগত জীবন। এবার সেই রহস্য-রোমাঞ্চে মোড়া জীবনের কাহিনিই উঠে আসছে রুপোলি পর্দায়। প্রযোজক রাণা সরকারের নতুন ছবি “গুনগুন করে মহুয়া” রূপ দিতে চলেছে মহুয়ার বর্ণময় জীবন ও মৃত্যু-রহস্যকে। মৃত্যুদিবসেই প্রকাশ পেল ছবির প্রথম মোশন পোস্টার। সেখানে এক মুহূর্তে মহুয়ার হাসিমাখা মুখ, পরের মুহূর্তেই নিস্তব্ধ অন্ধকার আর এক আগুনের মশাল। ধীরে ধীরে আগুনের ফুলকি রূপ নেয় জ্বলন্ত নারীমূর্তিতে। এক অনবদ্য প্রতীকী উপস্থাপন যেন ইঙ্গিত করে জীবনের আলো-অন্ধকারের দ্বন্দ্বে।
ছবির পরিচালনায় রয়েছেন নবাগত সোহিনী ভৌমিক। চিত্রনাট্য ও গবেষণার দায়িত্বে সোহিনী ও দেবপ্রতিম দাশগুপ্ত। ছবিতে মহুয়ার চরিত্রে কে অভিনয় করবেন, তা জানানো হবে মহুয়ার জন্মদিন ২৪ সেপ্টেম্বরের দিন। রাণা সরকার জানিয়েছেন, এটি কোনও তথ্যচিত্র নয়, মানুষ এবং অভিনেত্রী মহুয়া, উভয়কেই সমান গুরুত্বে তুলে ধরা হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম মহুয়ার কাহিনি জানবে কি? এই প্রশ্ন থেকেই নির্মিত হচ্ছে “গুনগুন করে মহুয়া”। শেষ পর্যন্ত ছবিটি কি সত্যিই নতুন করে আলো ফেলবে মহুয়ার মৃত্যু-রহস্যে? উত্তর লুকিয়ে ছবির পর্দাতেই।







