কলকাতা লিগের মরসুমে যখন প্রথম ডার্বিতে মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, তখন শুধুই এক ম্যাচ নয়—এ যেন আবেগ, আত্মমর্যাদা ও গর্বের লড়াই। কল্যাণী স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি সমর্থকের হৃদয়জুড়ে ছিল উত্তেজনা আর প্রতীক্ষা। আর সেই আবেগঘন সন্ধ্যায় ইস্টবেঙ্গলের দাপটে নত মস্তকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হল মোহনবাগান। পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে লাল-হলুদ শিবির জানিয়ে দিল—এবার তারা এসেছে কিছু প্রমাণ করতে।
প্রথমার্ধে শুরুটা ছিল কৌশলী। কিন্তু ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি নিজেদের অনুকূলে নিয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ৯ মিনিটে অধিনায়ক জেসিনের গোলে লিড নেয় তারা। এরপর সায়নের নিখুঁত পাসে আক্রমণে ধার বাড়ায় লাল-হলুদ। ডেভিডও গোলের খাতা খোলেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়ালেও খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই আগুন সামাল দেন রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলে দেয় মোহনবাগান। দোরজি, করণ, কাস্টানহার আগ্রাসনে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স চাপে পড়ে যায়। গোলকিপার দেবজিৎকে বোকা বানিয়ে কাস্টানহা ও পরে কিয়ান ম্যাচে সমতা ফেরান। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ মোহনবাগানের দিকে গড়াচ্ছে। কিন্তু ডেভিড লালানসাঙ্গা নিজের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় হেডে যে গোলটি করলেন, সেটাই হয়ে দাঁড়াল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
শেষদিকে ডেভিড গোল মিস করলেও লাল-হলুদ রক্ষণভাগ মরিয়া লড়াই চালিয়ে যায়। আমনের লাল কার্ড কিছুটা ধাক্কা দিলেও মোহনবাগান আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। সমর্থকদের চোখের সামনে হতাশায় ভেঙে পড়ল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। অন্যদিকে, জয়ের উল্লাসে গোটা কল্যাণী স্টেডিয়াম কেঁপে উঠল ‘ইস্টবেঙ্গল, ইস্টবেঙ্গল’ ধ্বনিতে।
এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাস আর ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এক নতুন অধ্যায়। ইস্টবেঙ্গল বুঝিয়ে দিল—ফর্ম, বাজেট কিংবা তারকাবহুল দল নয়, ডার্বি জেতার জন্য চাই হৃদয়ের লড়াই, আর তাতেই জয় হল ‘লাল-হলুদের’।







